ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাজ্যের সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। ওয়াশিংটন রিয়াদের অনুরূপ আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ার পর সৌদি সরকার লন্ডনের দ্বারস্থ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগর উপকূলে ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক আকস্মিক ও অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি ঠেকাতে রিয়াদ যখন কৌশলগত সংকটে পড়েছে, ঠিক তখনই এই ব্রিটিশ সেনা-সহায়তার অনুরোধটি সামনে এলো। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই অনুরোধের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তিনি আপাতত কেবল ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন।
সৌদি আরব মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে ইয়েমেনি বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে এবং নিজস্ব তেল অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্যের কার্যকর সামরিক সহায়তা চাইছে। এর আগে ইয়েমেনি যোদ্ধারা কৌশলগত মোখা বন্দর দখল করে প্রণালীর দিকে অগ্রসর হতে থাকলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি বিমান হামলার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত জানায়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম উপকূল ও মোখাসহ বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা নিজেদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তাদের এই সামরিক তৎপরতা মূলত সৌদি সামরিক স্থাপনা এবং সেই যুদ্ধ কর্মকাণ্ডকে সচল রাখা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত। তারা আরও আশ্বস্ত করেছে, আগ্রাসনের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ ব্যতীত আন্তর্জাতিক সাধারণ বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এই অভিযানের আওতামুক্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে অস্ত্র, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক সমর্থন জুগিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য। ফলে সেখানে নতুন করে ব্রিটিশ সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো হলে তা লন্ডনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের নতুন আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর ইয়েমেনের একক নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমা বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে সানা সরকার যেকোনো নতুন বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
kalprakash.com/IM