শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো ‘অফ ডে’ বা সাপ্তাহিক বাড়তি ছুটি রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে পরিচালিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির প্রচার ও শিক্ষাউপকরণ বিতরণ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে পারবেন না। শিক্ষকরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় দুপুরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা থাকে না। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় শিক্ষকরাই নেই। শিক্ষকরা যদি নিজ কর্মস্থলে না থাকেন, তবে শিক্ষার্থীরা সেখানে কীভাবে থাকবে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শিক্ষকদের দায়িত্বশীল আচরণের তাগিদ দিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চাকরিতে যোগদানের নীতিমালায় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি ভোগের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এটি এক ধরনের অনিয়মের চর্চায় পরিণত হয়েছে। এখন সেই মানসিকতা ও পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না। পাঠদান কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও প্রয়োজনে শিক্ষকদের প্রশাসনিক বা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজে সময় দিতে হবে।
সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেভাবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন, শিক্ষকদেরও তেমনি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সমান দায়িত্বশীলতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ চালুর অল্প দিনের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিকসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM