কোনো প্রকার জামানত ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৬৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে কোনো ধরনের ঋণ আবেদন বা বৈধ রেকর্ডপত্র জমা না দিয়ে, কোনো প্রকার জামানত ব্যতীত এবং পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে মোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ৪৬ হাজার ১১৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ লোপাট করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফীন, সাবেক সিনিয়র অফিসার মিষ্টু কুমার সাহা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আরিফুজ্জামান, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম কামরুজ্জামান এবং সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার রাফিদুল ইসলাম।
এছাড়া বিভিন্ন সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্তরা হলেন—ম্যাক্স সোয়েটার বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মনিরুজ্জামান, পরিচালক সেলিনা জামান, কাজী সিরাজুজ্জামান ও কাজী আবুল কালাম আজাদ; সাদ মুসা ফেব্রিক্স লি. ও সাজিদ মাহমুদ কটন মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন, পরিচালক মোসাম্মাৎ রোকেয়া বেগম ও শামীমা নারগিস; জেসন ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক আয়রা সেলিম, জিনাত সেলিম, এনাম মল্লিক ও নাফিজা সেলিম; বেইজ টেক্সটাইল লি.-এর ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার শাহাদাত ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান শিবলী; প্যান এশিয়া ট্রেড হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফাইজুল হক এবং রকিবুল আনোয়ার হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার ও তার স্ত্রী নাফিজা আক্তার আনোয়ার।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে এসব মামলার চার্জশিট ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র দাখিল করবেন।
kalprakash.com/IM