কূটনৈতিকভাবে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন যৌথ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে শিল্পোন্নত তিন দেশ। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্যের আমদানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য আর মানুষের ওপর অবিচার ও চরম দুর্ভোগের বিষয়ে কেবল মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়ে বসে থাকবে না। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ প্রতিহত করতে এখন সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘চুপচাপ দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও দুর্দশা নেমে আসা এবং ঐতিহাসিক দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ধ্বংস হতে দেখা আমরা আজ থেকেই বন্ধ করলাম।’ যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বিরাষ্ট্র নীতির পক্ষে অবিচল থাকলেও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে এর বিরোধিতা করে আসছে।
এ নিষেধাজ্ঞার পরপরই ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন ইসরায়েলের দুই প্রভাবশালী কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। আর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি মূলত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে থাকে।
এড মিলিব্যান্ড আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। লন্ডন বিশ্বাস করে, পশ্চিম তীরের বেশ কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের এমন পদক্ষেপকে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শামিল বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বার্ষিক ৬০০ কোটি পাউন্ডের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এই নিষেধাজ্ঞার সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নিষিদ্ধ হতে যাওয়া পণ্যের বড় অংশই মূলত কৃষিপণ্য ও ওয়াইন, যা মোট বাণিজ্যিক পরিমাণের সামান্য অংশ।
বর্তমানে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জেরুজালেমের অদূরে পশ্চিম তীরে প্রস্তাবিত বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ (E-1) বসতি প্রকল্প। এটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সরাসরি বিনষ্ট করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। যদিও জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিংহভাগই এই বসতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বিবেচনা করে, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
kalprakash.com/IM