ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ‘ব্যাপক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স। এ হামলায় মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং অবস্থানস্থলে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, জর্ডানের কৌশলগত আল-আজরাক মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়। ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিশোধ নিতে পরিচালিত ‘আগ্রাসীকে শাস্তি দেওয়ার অভিযান’-এর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় উন্নত কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের হ্যাঙ্গার, অপারেশনাল প্রস্তুতি এলাকা, যুদ্ধবিমান রাখার শেল্টার এবং এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়। এতে মার্কিন পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেও হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি তেহরান।
আইআরজিসি আরও জানায়, পৃথক এক অভিযানে এজিস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ লক্ষ্য করেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। এছাড়া বুধবার ভোরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দুটি মার্কিন নৌযান, আটটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী আরও ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে আইআরজিসির এসব সামরিক দাবি স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আল-আজরাক ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান কিংবা মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পেন্টাগন বা নিরপেক্ষ কোনো পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/IM