বাংলাদেশ ০২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন মেসি Logo জুলাই শহিদদের স্মরণে কুবি ছাত্রশক্তির মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান Logo বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা Logo সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন Logo ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি Logo ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বাড়ছে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা Logo সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ, ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার Logo প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ৭৭০ পরিবার পাচ্ছে ছাগল Logo সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে

সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন

পাবনা শহরের একটি ছাত্রী নিবাস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে থাকতেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজমনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী ছিলেন। এ জন্য একটি কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্বজনদের দাবি।

স্বজনরা জানান, রাজমনির জন্মের পর থেকেই তার বাবা একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং ভাই পেশায় গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

রাজমনির চাচা বলেন, প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বারে তিনি পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। তবে তার আগ্রহ ছিল আইইএলটিএস করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার। এ জন্য তিনি পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে পরিবারের সঙ্গে রাজমনির শেষবারের মতো কথা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

রাজমনির বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বলেন, “দুপুরে আমাদের কথা হয়েছিল। তখন তিনি পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা বলেছিলেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে আমি তার পরিচিতদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি।”

রুমমেট অর্পিতা রশিদ বলেন, “রাজমনির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মেস কর্তৃপক্ষকে জানাই। এরপর কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, “এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।”

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।”

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন
জনপ্রিয় সংবাদ

কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন মেসি

সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন

প্রকাশিত: ১১:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

পাবনা শহরের একটি ছাত্রী নিবাস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে থাকতেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজমনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী ছিলেন। এ জন্য একটি কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্বজনদের দাবি।

স্বজনরা জানান, রাজমনির জন্মের পর থেকেই তার বাবা একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং ভাই পেশায় গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

রাজমনির চাচা বলেন, প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বারে তিনি পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। তবে তার আগ্রহ ছিল আইইএলটিএস করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার। এ জন্য তিনি পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে পরিবারের সঙ্গে রাজমনির শেষবারের মতো কথা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

রাজমনির বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বলেন, “দুপুরে আমাদের কথা হয়েছিল। তখন তিনি পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা বলেছিলেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে আমি তার পরিচিতদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি।”

রুমমেট অর্পিতা রশিদ বলেন, “রাজমনির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মেস কর্তৃপক্ষকে জানাই। এরপর কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, “এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।”

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।”

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন