কুমিল্লা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদি শিল্পকে আধুনিক বাজারে নতুনভাবে পরিচিত করতে ‘বয়ন’ নামে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে খাদি পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আট শিক্ষার্থী।
উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তারিন সুমাইয়া ও একা তালুকদার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রায়হান মিথ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রান্ত ঘোষ, লামিয়া আক্তার ও সুপ্রতিক বড়ুয়া এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুবায়েত হোসেন ও জান্নাতুল নাইমা সম্পা।
প্রতিষ্ঠাতারা জানান, কুমিল্লার চান্দিনায় বর্তমানে হাতে গোনা মাত্র দুই-তিনজন কারিগর এখনও খাদি শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে হাতে বোনা খাদি কাপড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, ওয়ালম্যাট ও নকশাদার পাঞ্জাবি তৈরি করে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বিলুপ্তপ্রায় খাদি শিল্প সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
তারা আরও জানান, আপাতত পরিচিতদের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে অনলাইন বিক্রির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুথ স্থাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তাদের এই উদ্যোগকে ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় বুননশিল্পীরাও। স্থানীয় কারিগর ক্ষিতীশ দেবনাথ বলেন, “বর্তমানে হাতে বোনা খাদির চাহিদা অনেক কমে গেছে। ফলে অনেক কারিগর পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আবার মজুরি কম হওয়ায় নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আগ্রহী নয়। ‘বয়ন’-এর মতো উদ্যোগ যদি আরও গড়ে ওঠে, তাহলে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।”
উদ্যোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রান্ত ঘোষ বলেন, “শুরুর যাত্রাটা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। যাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছি, তারা শেষ পর্যন্ত কাজটি করতে পারবেন কি না, কী ধরনের পণ্য তৈরি করানো হবে কিংবা কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে—এসব বিষয় নিয়ে আমরা বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে প্রথম পণ্যটি সফলভাবে হাতে পাওয়ার পর আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। এখন আমরা এই উদ্যোগকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই।”
অপর প্রতিষ্ঠাতা তারিন সুমাইয়া বলেন, “একটি প্রতিবেদনের কাজে চান্দিনায় গিয়ে প্রথম খাদি শিল্পের বর্তমান সংকট সম্পর্কে জানতে পারি। তখনই মনে হয়েছিল, বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে ঘিরে কিছু করা দরকার। বিষয়টি বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারাও আগ্রহ প্রকাশ করে। সেখান থেকেই ‘বয়ন’-এর যাত্রা শুরু। কুমিল্লার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগেই খাদি শিল্পের সোনালি দিন আবারও ফিরে আসতে পারে।”
কুবি প্রতিনিধি 


















