রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ সময় অবস্থান, বিপুল অঙ্কের ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুইটি কক্ষ ব্যবহার করে তারা প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যান।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন এবং তাওসীপ।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তি যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, বিষয়টি প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
হোটেলের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে রুম দুটি ব্যবহার করলেও ভাড়া পরিশোধ করেননি এবং একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা দেননি। পরে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, রুম ভাড়ার বিষয়ে তারা সরাসরি দায়িত্বশীল ছিলেন না এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, তিনি এসব বিষয়ে অবগত নন এবং অভিযোগটি তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অন্য কয়েকজন নেতা অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করলেও ভাড়ার দায় এড়িয়ে যান।
এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য শৃঙ্খলা কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য ঘিরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
অনলাইন ডেস্ক 
















