রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক যুবককে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুজন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণের দাবির ফোন পেয়ে ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানায়, একটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা এক তরুণের পকেট থেকে এক যুবক ইয়াবাসদৃশ বস্তু বের করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্তাধীন।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। এছাড়া পলাতকদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তার পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে—এমন অভিযোগে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের অভিযোগের আওতায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের আটক করা গেলে পুরো ঘটনার নেপথ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়। বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
অনলাইন ডেস্ক 





















