নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক সংস্কার কাজে ব্যবহৃত বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের পাশেই নির্মাণসামগ্রী মজুত ও কাজ পরিচালনা করায় পাঠদানের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা এলজিইডির আওতাধীন জামনগর ডিগ্রি কলেজ থেকে করমদোশী বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং কাজ চলছে। কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ১৭ জুন চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত নাটোর সুগার মিলের আওতাধীন জামনগর চৌধুরীপাড়া আখ সেন্টারের মাঠে পাথর, বিটুমিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মজুত করে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের মাঠে পাথর ও বিটুমিন মেশানোর কাজ চলছে। পাশেই স্থাপিত চুলায় বিটুমিন গলানো হচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গার্মেন্টসের ঝুট, যার ফলে কালো ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে বিদ্যালয় ভবন ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতির বিকট শব্দে পাঠদানের পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্ত্রী সানিধ্য পাল জানায়, পিচ পোড়ানোর গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, আগে বিরতির সময় মাঠে খেলাধুলা করা গেলেও এখন ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের কারণে মাঠ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্বাসকষ্টে ভোগা আরেক শিক্ষার্থী বলে, বিটুমিনের ধোঁয়ায় তার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।

চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।”
সহকারী শিক্ষিকা হাসিনা বানু বলেন, “বিটুমিনের কালো ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছি না। জানালা-দরজা বন্ধ করে এই গরমের মধ্যে ক্লাস নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।”
অন্য সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা খাতুন ও ফিরোজা খাতুন বলেন, ধোঁয়া এবং মেশিনের বিকট শব্দের কারণে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সড়ক সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা কার্যসহকারী মো. বাবুল আক্তার বলেন, “বাতাসে সামান্য ধোঁয়া যাচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই ইউএনও স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”
তবে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয় এলাকা থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে অন্যত্র সড়ক সংস্কারের কাজ পরিচালনা করা হোক। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি 



















