বাংলাদেশ ০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

১০ শয্যার আইসিইউ চালু, উন্নত চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু করা হয়েছে। বহুদিন ধরে স্থানীয় মানুষের দাবি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এখন আর খুলনা বা ঢাকায় ছুটতে হবে না।

রোববার সকাল ১১টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অনেক আগেই প্রস্তুত থাকলেও জনবল সংকট ও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আইসিইউ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেবাটি চালু হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা একে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

তবে আইসিইউ চালুর মধ্যেও হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, শুধু শয্যা স্থাপন করলেই আইসিইউ পূর্ণাঙ্গ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি সেবা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অপ্রতুল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আইসিইউ সেবাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আরও জনবল ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে রোগীদের অভিযোগ, আইসিইউ চালু হলেও এখনো সিটিস্ক্যান, সিসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু হয়নি। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসিইউ ইউনিটকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোগীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়ালাইসিস মেশিন, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এসব সুবিধা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এর সুফল ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল, নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন। এসব চাহিদা পূরণ হলে জেলার মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারবেন।

kalprakash.com/SAS

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
১০ শয্যার আইসিইউ চালু, উন্নত চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
জনপ্রিয় সংবাদ

১০ শয্যার আইসিইউ চালু, উন্নত চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ০২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু করা হয়েছে। বহুদিন ধরে স্থানীয় মানুষের দাবি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এখন আর খুলনা বা ঢাকায় ছুটতে হবে না।

রোববার সকাল ১১টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অনেক আগেই প্রস্তুত থাকলেও জনবল সংকট ও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আইসিইউ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেবাটি চালু হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা একে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

তবে আইসিইউ চালুর মধ্যেও হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, শুধু শয্যা স্থাপন করলেই আইসিইউ পূর্ণাঙ্গ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি সেবা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অপ্রতুল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আইসিইউ সেবাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আরও জনবল ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে রোগীদের অভিযোগ, আইসিইউ চালু হলেও এখনো সিটিস্ক্যান, সিসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু হয়নি। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসিইউ ইউনিটকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোগীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়ালাইসিস মেশিন, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এসব সুবিধা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এর সুফল ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল, নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন। এসব চাহিদা পূরণ হলে জেলার মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারবেন।

kalprakash.com/SAS

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
১০ শয্যার আইসিইউ চালু, উন্নত চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা