স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ, ইয়ারবাড কিংবা গাড়ির অডিও সিস্টেম—প্রতিদিনের জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য। কিন্তু আধুনিক এই প্রযুক্তির নাম যে প্রায় এক হাজার বছর আগের এক ভাইকিং রাজার নাম থেকে এসেছে, তা অনেকেরই অজানা।
ব্লুটুথ নামটি এসেছে দশম শতাব্দীর ডেনমার্কের রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথ গর্মসনের নাম থেকে। শুধু নামই নয়, ব্লুটুথের বহুল পরিচিত লোগোটিও তৈরি হয়েছে তার নামের আদ্যক্ষরকে কেন্দ্র করে।
ইতিহাসে হ্যারাল্ড ব্লুটুথ একজন ঐক্যসাধক শাসক হিসেবে পরিচিত। তিনি ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন গোত্র ও অঞ্চলকে একত্রিত করে শক্তিশালী একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার ভূমিকাই পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির নামকরণের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
১৯৯০-এর দশকে ইন্টেল, এরিকসন ও নোকিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান একটি নতুন ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি তৈরির কাজ শুরু করে। ১৯৯৭ সালে ইন্টেলের প্রকৌশলী জিম কার্দাক এই প্রযুক্তির জন্য অস্থায়ীভাবে ‘ব্লুটুথ’ নামটি প্রস্তাব করেন। সে সময় তিনি হ্যারাল্ড ব্লুটুথকে নিয়ে লেখা একটি বই পড়ছিলেন। তার ধারণা ছিল, রাজা যেমন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এক করেছিলেন, তেমনি এই প্রযুক্তিও বিভিন্ন ডিভাইসকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। পরবর্তীতে অস্থায়ী নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়।
ইতিহাসবিদদের ধারণা, হ্যারাল্ডের একটি দাঁত নীলচে বা কালচে রঙের ছিল। সেখান থেকেই তার সঙ্গে ‘ব্লুটুথ’ বা ‘নীল দাঁত’ উপাধি যুক্ত হয়।
ব্লুটুথের নীল রঙের লোগোটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রুনিক বর্ণমালার দুটি অক্ষরের সমন্বয়ে তৈরি। হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর ‘H’ এবং ‘B’-এর রুনিক প্রতীক একত্র করে বর্তমান লোগোটি ডিজাইন করা হয়েছে।
বর্তমানে ছবি, গান, ফাইল আদান-প্রদান থেকে শুরু করে ওয়্যারলেস হেডফোন, স্পিকার এবং অসংখ্য স্মার্ট ডিভাইস সংযোগে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তি ও ইতিহাসের এই অনন্য সংযোগ ব্লুটুথকে শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এক আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক গল্পের অংশ হিসেবেও পরিচিত করেছে।
kalprakash.com/SS
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 























