বাংলাদেশ ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ Logo শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ Logo ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আমিরাতের Logo অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সহায়তা চেয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ বাংলাদেশ Logo মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে? Logo অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করলেন সাগর-রুনির সন্তান মেঘ Logo গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম? Logo যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত Logo নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষ Logo খানজাহান আলীর দিঘির শেষ কুমির অপসারণ, সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্যের অবসান

ন্যানোটেক গবেষণায় সাফল্য, এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড জয় কুবি শিক্ষিকার

জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এই সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস তার এ পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্বসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

তিনি বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ এবং ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এ গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা ভবিষ্যতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মর্যাদাপূর্ণ এ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পুরস্কার আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।

গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এ পুরস্কার অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

ন্যানোজেল প্রযুক্তি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

kalprakash.com/SAS

বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ন্যানোটেক গবেষণায় সাফল্য, এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড জয় কুবি শিক্ষিকার
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ

ন্যানোটেক গবেষণায় সাফল্য, এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড জয় কুবি শিক্ষিকার

প্রকাশিত: ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এই সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস তার এ পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্বসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

তিনি বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ এবং ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এ গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা ভবিষ্যতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মর্যাদাপূর্ণ এ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পুরস্কার আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।

গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এ পুরস্কার অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

ন্যানোজেল প্রযুক্তি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

kalprakash.com/SAS

বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ন্যানোটেক গবেষণায় সাফল্য, এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড জয় কুবি শিক্ষিকার