রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আজ সোমবার (১ জুন) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত ২৪ মে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে রোববার (৩১ মে) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করবে। তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে সরকারের প্রত্যাশা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা ঘটনার দায় স্বীকার করে এবং ঘটনার আগে মাদক সেবনের কথা উল্লেখ করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















