বাংলাদেশ ১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

যে কারণে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না

সংগৃহীত ছবি

ইসলামে ঘর-বাড়ি, কক্ষ ও কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে সাজানোকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। অতিরিক্ত শোপিস, বিশেষ করে প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি ব্যবহারকে ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে অনেকেই ঘর বা অফিস সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর ছবি, প্রতিকৃতি বা স্ট্যাচু ব্যবহার করেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এসব বিষয় বৈধ নয়। কারণ এসব কাজে শরিয়তের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি শিশুদের খেলনার ক্ষেত্রেও প্রাণীর আকৃতি ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি বা কুকুর থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৪৯)

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, তিনি একটি ছবি-যুক্ত বালিশ সংগ্রহ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৮১)

অন্য বর্ণনায় জিবরাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানান যে, ঘরে ছবি ও কুকুর থাকার কারণে তিনি প্রবেশ করেননি। পরে নির্দেশ দেওয়া হয় ছবির মাথা মুছে ফেলা ও কুকুর সরিয়ে দেওয়ার। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫৮)

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায়ও রয়েছে, প্রাণীর ছবি তৈরির বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, যে ছবি তৈরি করে কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫)

তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন গাছপালা বা অনুরূপ নকশা তৈরি করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন সাহাবায়ে কেরাম।

ইসলামি শিক্ষায় বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা ঘর-বাড়ি ও পরিবেশে বরকত ও রহমত কামনা করি, কিন্তু শরিয়তবিরোধী কাজের মাধ্যমে অনেক সময় সেই রহমতের পথ নিজেরাই বন্ধ করে দিই। তাই ঘর-বাড়ি ও কর্মস্থলকে শরিয়তসম্মত রাখাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

যে কারণে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না

প্রকাশিত: ০৫:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ইসলামে ঘর-বাড়ি, কক্ষ ও কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে সাজানোকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। অতিরিক্ত শোপিস, বিশেষ করে প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি ব্যবহারকে ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে অনেকেই ঘর বা অফিস সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর ছবি, প্রতিকৃতি বা স্ট্যাচু ব্যবহার করেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এসব বিষয় বৈধ নয়। কারণ এসব কাজে শরিয়তের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি শিশুদের খেলনার ক্ষেত্রেও প্রাণীর আকৃতি ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি বা কুকুর থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৪৯)

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, তিনি একটি ছবি-যুক্ত বালিশ সংগ্রহ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৮১)

অন্য বর্ণনায় জিবরাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানান যে, ঘরে ছবি ও কুকুর থাকার কারণে তিনি প্রবেশ করেননি। পরে নির্দেশ দেওয়া হয় ছবির মাথা মুছে ফেলা ও কুকুর সরিয়ে দেওয়ার। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫৮)

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায়ও রয়েছে, প্রাণীর ছবি তৈরির বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, যে ছবি তৈরি করে কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫)

তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন গাছপালা বা অনুরূপ নকশা তৈরি করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন সাহাবায়ে কেরাম।

ইসলামি শিক্ষায় বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা ঘর-বাড়ি ও পরিবেশে বরকত ও রহমত কামনা করি, কিন্তু শরিয়তবিরোধী কাজের মাধ্যমে অনেক সময় সেই রহমতের পথ নিজেরাই বন্ধ করে দিই। তাই ঘর-বাড়ি ও কর্মস্থলকে শরিয়তসম্মত রাখাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

kalprakash.com/SS