বাংলাদেশ ০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন Logo ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি Logo ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বাড়ছে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা Logo সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ, ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার Logo প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ৭৭০ পরিবার পাচ্ছে ছাগল Logo সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে Logo বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি খরচে তৈরি ‘জিটিএ সিক্স’! Logo টানা ২৪ ঘণ্টা না খেলে শরীরে কী ঘটে? Logo জনবল নিয়োগ দেবে লাইভ শপিং, অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু

রোহিঙ্গাদের জন্য ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো সহায়তা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার। রোববার (৩১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর জানায়, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মিয়ানমারে নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে তাদের অধিকাংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ পরিবার কাজের বিনিময়ে অর্থ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে পেরেছে। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী ও অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ের উৎসই ছিল না।

ইউএনএইচসিআর বলছে, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা। ক্যাম্পে জায়গার সংকটের কারণে তাদের অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত আশ্রয় সুবিধা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। কমে যাওয়া তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় ফিনল্যান্ডের নতুন সহায়তা আন্তর্জাতিক সংহতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতা অব্যাহত রাখতে হবে।

নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই শুধু জরুরি সহায়তা নয়, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আওতায় আনা জরুরি।

ফিনল্যান্ডের এই অনুদান এমন সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এ তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

kalprakash.com/SS

রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
রোহিঙ্গাদের জন্য ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো সহায়তা
জনপ্রিয় সংবাদ

সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন

রোহিঙ্গাদের জন্য ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো সহায়তা

প্রকাশিত: ০৩:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার। রোববার (৩১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর জানায়, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মিয়ানমারে নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে তাদের অধিকাংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ পরিবার কাজের বিনিময়ে অর্থ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে পেরেছে। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী ও অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ের উৎসই ছিল না।

ইউএনএইচসিআর বলছে, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা। ক্যাম্পে জায়গার সংকটের কারণে তাদের অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত আশ্রয় সুবিধা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। কমে যাওয়া তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় ফিনল্যান্ডের নতুন সহায়তা আন্তর্জাতিক সংহতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতা অব্যাহত রাখতে হবে।

নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই শুধু জরুরি সহায়তা নয়, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আওতায় আনা জরুরি।

ফিনল্যান্ডের এই অনুদান এমন সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এ তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

kalprakash.com/SS

রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
রোহিঙ্গাদের জন্য ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো সহায়তা