আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাহরাইনের পশুর হাটগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক কেনাকাটা। মরুভূমির তীব্র গরম উপেক্ষা করে হামেলা, জিদাফস ও মানামাসহ বিভিন্ন এলাকার হাটে এখন প্রবাসীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে এসব হাটে দেশীয় হাটের মতোই ঈদের আমেজ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পশু কেনাবেচা, দরদাম এবং কোরবানিকে কেন্দ্র করে নানা প্রস্তুতি।
বাজারে এবার সৌদি আরব, ওমান ও সোমালিয়া থেকে আমদানি করা গরু, দুম্বা ও ছাগলের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় খামারের পশুর পাশাপাশি এসব আমদানি করা পশুর দামও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার পশুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের আগ্রহে তেমন ভাটা পড়েনি।
এক প্রবাসী ব্যবসায়ী জানান, গত বছর যেখানে মাঝারি মানের একটি গরু প্রায় ৪৫০ দিনারে পাওয়া যেত, এবার তা বেড়ে ৬৫০ দিনার পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে সোমালিয়ান ছাগলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দাম বেশি হলেও প্রবাসীরা বলছেন, ঈদের কোরবানির ধর্মীয় আবেগ ও ত্যাগের অনুভূতি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকেই একা কোরবানি না দিয়ে বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগে কোরবানি দিচ্ছেন, যাতে খরচ কিছুটা কমানো যায়।
এদিকে পশুর হাটগুলো এখন শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কেনাকাটার ফাঁকে চলছে আড্ডা, ঈদের খাবারের পরিকল্পনা এবং পুরোনো স্মৃতিচারণ।