বাংলাদেশ ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে মুমিনের কোরবানি ও আত্মত্যাগের মহিমা

সংগৃহীত ছবি

ইসলামের ইতিহাস মূলত ত্যাগ, ধৈর্য, ঈমান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। যুগে যুগে মুমিনরা নিজেদের জীবন, সম্পদ, পরিবার ও প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে ইসলামের আদর্শকে সমুন্নত করেছেন।

ইসলামের প্রথম দিকেই কোরবানির শিক্ষা পাওয়া যায় হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনায়। এরপর নবী ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগ কোরবানির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে, প্রকৃত ঈমান হলো আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে বিলীন করে দেওয়া।

ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাকওয়া এবং আত্মসমর্পণের প্রতীক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তাদের গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (সুরা হজ, আয়াত ৩৭)।

ইতিহাসে আরও দেখা যায়, জাহেলি যুগেও পশু কোরবানির প্রচলন ছিল। এমনকি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আবদুল মুত্তালিব একবার তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ১০০ উট কোরবানি করেছিলেন। তবে ইসলামে কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে কোরবানি ছিল নিয়মিত একটি ইবাদত। তিনি মদিনায় দশ বছর অবস্থানকালে প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। তিনি নিজের, পরিবার এবং উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি দিতেন এবং কোরবানির গোশত আত্মীয়, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করতেন।

কোরবানির ঈদ মুসলিম সমাজে শুধু আনন্দের দিন নয়; বরং এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ইবাদতের সমন্বিত শিক্ষা দেয়। ঈদের দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক, পারস্পরিক শুভেচ্ছা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ প্রকাশ পায়।

আলেমদের মতে, সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। আর এই সামর্থ্য শুধু পুরুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যদি তারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

সবশেষে বলা যায়, একজন সত্যিকারের মুমিন তখনই সফল, যখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তি, অহংকার, লোভ ও দুনিয়ার মোহকে ত্যাগ করতে পারে। কারণ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামের ইতিহাসে মুমিনের কোরবানি ও আত্মত্যাগের মহিমা

প্রকাশিত: ০৪:০০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস মূলত ত্যাগ, ধৈর্য, ঈমান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। যুগে যুগে মুমিনরা নিজেদের জীবন, সম্পদ, পরিবার ও প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে ইসলামের আদর্শকে সমুন্নত করেছেন।

ইসলামের প্রথম দিকেই কোরবানির শিক্ষা পাওয়া যায় হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনায়। এরপর নবী ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগ কোরবানির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে, প্রকৃত ঈমান হলো আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে বিলীন করে দেওয়া।

ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাকওয়া এবং আত্মসমর্পণের প্রতীক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তাদের গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (সুরা হজ, আয়াত ৩৭)।

ইতিহাসে আরও দেখা যায়, জাহেলি যুগেও পশু কোরবানির প্রচলন ছিল। এমনকি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আবদুল মুত্তালিব একবার তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ১০০ উট কোরবানি করেছিলেন। তবে ইসলামে কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে কোরবানি ছিল নিয়মিত একটি ইবাদত। তিনি মদিনায় দশ বছর অবস্থানকালে প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। তিনি নিজের, পরিবার এবং উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি দিতেন এবং কোরবানির গোশত আত্মীয়, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করতেন।

কোরবানির ঈদ মুসলিম সমাজে শুধু আনন্দের দিন নয়; বরং এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ইবাদতের সমন্বিত শিক্ষা দেয়। ঈদের দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক, পারস্পরিক শুভেচ্ছা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ প্রকাশ পায়।

আলেমদের মতে, সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। আর এই সামর্থ্য শুধু পুরুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যদি তারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

সবশেষে বলা যায়, একজন সত্যিকারের মুমিন তখনই সফল, যখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তি, অহংকার, লোভ ও দুনিয়ার মোহকে ত্যাগ করতে পারে। কারণ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

kalprakash.com/SS