বাংলাদেশ ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নতুন পে-স্কেলে কমতে পারে বেতন বৈষম্য, বাড়তে পারে নিম্ন আয়ের কর্মীদের সুবিধা

সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমানো, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ানো এবং পেনশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে নতুন পে-স্কেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এ শ্রেণির কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কমিটির মধ্যে ইতিবাচক মতৈক্য হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে সুবিধা বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হতে পারে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। একইভাবে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ ব্যয় বিবেচনায় রেখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সঙ্গে বাজেটসংক্রান্ত বৈঠকেও নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি চাকরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।

গত সোমবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় আনা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

kalprakash.com/SS 

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পে-স্কেলে কমতে পারে বেতন বৈষম্য, বাড়তে পারে নিম্ন আয়ের কর্মীদের সুবিধা

প্রকাশিত: ০৩:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমানো, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ানো এবং পেনশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে নতুন পে-স্কেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এ শ্রেণির কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কমিটির মধ্যে ইতিবাচক মতৈক্য হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে সুবিধা বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হতে পারে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। একইভাবে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ ব্যয় বিবেচনায় রেখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সঙ্গে বাজেটসংক্রান্ত বৈঠকেও নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি চাকরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।

গত সোমবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় আনা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

kalprakash.com/SS