দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা রবি মোহনের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। স্ত্রী আরতি রবির সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর এবার প্রকাশ্যে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন এই অভিনেতা।
একই সঙ্গে গায়িকা কিনিশা ফ্রান্সিসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও চলচ্চিত্র অঙ্গনে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রবি মোহন জানান, আরতির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নিচ্ছেন। এ সময় তিনি দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, মানসিক চাপ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।
তার অভিযোগ, বিচ্ছেদের সময় তিনি মারাত্মক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তিনি আরও বলেন, সন্তানদের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রবির দাবি, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য দেহরক্ষী পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারণেই এখন সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাকে।
নিজের জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, একসময় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং নিজের হাতের শিরা কেটে ফেলেছিলেন। তবে পরদিনই শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। তার ভাষায়, পেশার প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
এছাড়া তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালোজাদুর অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিয়ের আগের সময় নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন রবি মোহন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আরতি নাকি নিজেকে আঘাত করে তাকে বিয়েতে রাজি করাতে চাপ দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েই সেই সময়ে বিয়েতে সম্মত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, গায়িকা কিনিশা ফ্রান্সিসের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার গুঞ্জনও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের কারণে কিনিশা তার জীবন থেকে দূরে সরে গেছেন। তবে কঠিন সময়ে তিনি তার পাশে ছিলেন বলেও জানান অভিনেতা।
২০০৯ সালে রবি মোহন ও আরতি রবি বিয়ে করেন। প্রায় ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৪ সালে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
এদিকে রবি মোহনের এসব অভিযোগের পর তার শাশুড়ি সুজাতা বিজয়কুমারও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সব কিছুই শোনা হয়েছে। কে কাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে, কে বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছে—সব প্রমাণ আছে, সময় হলে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
kalprakash.com/SS
বিনোদন ডেস্ক 






















