হজরত আমেনা বিনতে ওহাব ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্মানিত মা। তাঁর পিতার নাম ছিল ওহাব ইবনে আবদে মানাফ। বংশপরম্পরায় তাঁর নসব গিয়ে কিলাব পর্যন্ত পৌঁছে, যা পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতৃবংশের সঙ্গে মিলিত হয়।
বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মহানবী (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, তিনি পূর্ণ নয় মাস সন্তান ধারণ করেন এবং গর্ভকালীন সময়ে সাধারণ নারীদের মতো কষ্ট বা জটিলতার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। এ সময় তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যু ঘটে, ফলে তিনি গভীর শোকাহত হন।
প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হস্তি বাহিনীর ঘটনার প্রায় ৫০ বছর পর তিনি পবিত্র সন্তান মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রসব করেন। নবজাতককে নিয়ে নানা অলৌকিক ঘটনা ও স্বপ্নের বর্ণনাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। জন্মের পর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতিকে কাবা ঘরে নিয়ে গিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মদ।
মা আমেনা নিজেই প্রথম কয়েকদিন নবীজি (সা.)-কে দুধ পান করান। পরে তাঁকে হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর কাছে দেওয়া হয়। শৈশবের একটি অংশ তিনি মক্কা ও ইয়াসরিবে (মদিনা) কাটান।
ইয়াসরিব সফর শেষে মক্কায় ফেরার পথে আল-আবওয়া নামক স্থানে মা আমেনা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি দাসী উম্মে আইমানকে নবী (সা.)-এর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয়।
ইসলামি ইতিহাসে হজরত আমেনা বিনতে ওহাবকে একজন ধৈর্যশীল, সম্মানিত ও মর্যাদাবান মা হিসেবে স্মরণ করা হয়, যিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের জন্মদাত্রী ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























