উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে তাঁর জন্মভূমি যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর উপজেলা শাখা।
১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ধীরাজ ভট্টাচার্য। ১৯৫৯ সালের ৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়িও হয়েছিল পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসম্পাদক মানব মণ্ডল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান ধীরাজ ভট্টাচার্য। সেখানে পুলিশ বিভাগে চাকরি করার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় ও সাহিত্যচর্চায় খ্যাতি অর্জন করেন। অভিনয়জীবনে নায়ক ও খলনায়ক—উভয় চরিত্রেই তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশে কর্মরত অবস্থায় ধীরাজ ভট্টাচার্যের কর্মস্থল ছিল চট্টগ্রাম। পরে তাঁকে টেকনাফে বদলি করা হয়। সেখানে মগ রাজার কন্যা মাথিনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিণয় হয়নি। ধীরাজ কলকাতায় ফিরে গেলে তাঁকে হারানোর বেদনায় মাথিনের জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। তাঁদের প্রেমকাহিনি উপমহাদেশের মানুষের কাছে আজও আলোচিত। টেকনাফ থানার পাশের কূপটি পরবর্তী সময়ে ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ধীরাজ ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’। তাঁর অভিনয়জীবন, সাহিত্যকর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পাঁজিয়ার এই কৃতী সন্তান শুধু নিজের জন্মভূমি নয়, বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যাঙ্গনেও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর উপজেলা শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং জন্মভূমির এই কৃতী সন্তানের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।