দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়া, পদবি পরিবর্তন এবং সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুমোদন না হওয়াসহ নানা বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন গাইবান্ধার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না হলে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও কর্মীদের কর্মস্পৃহা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ২০১৪ সালে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। বর্তমানে দেশের ৪৯২টি উপজেলায় ব্যাংকটির ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১১ হাজার জনবল নিয়ে ব্যাংকটি দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পদোন্নতি ও পদবি পরিবর্তন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। একই পদে চাকরিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেই পদেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁদের।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং কর্মস্পৃহা কমে যাচ্ছে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের চাকরির যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এতে ব্যাংকের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকের জনবল ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়লেও সে অনুযায়ী পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক কাঠামোর আধুনিকায়ন না হওয়াকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন তাঁরা।
এ সময় দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন, পদোন্নতি কার্যক্রম চালু, পদবি পরিবর্তন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের মতে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের আগ্রহ ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিবিএর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি স্বপন সরকার, গাইবান্ধা জেলা সিবিএর সভাপতি মুরশিদ মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নেতারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন, পদোন্নতি ও পদবি পরিবর্তনের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।