পঞ্চগড় পৌরসভার প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইট বিছিয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক কয়েক মাসের ব্যবধানে তুলে ফেলে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সড়কে দুই সরকারি দপ্তরের পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘটনায় সরকারি অর্থের ব্যবহার ও পরিকল্পনার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটিতে প্রথমে ইট বিছিয়ে সংস্কারকাজ করে পঞ্চগড় পৌরসভা। পরে ওই সড়কের ইট তুলে ফেলে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে এলজিইডি। এতে আগের সংস্কারকাজের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে জানান, তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাবেত আলীর নির্দেশনায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সড়কটিতে ইট বিছানো হয়েছিল। সে সময় এলজিইডির প্রকল্পের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল না। বর্তমানে তুলে নেওয়া ইটগুলো উদ্ধারযোগ্য মালামাল হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে এলজিইডিকে অনাপত্তিও দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রশাসক সীমা শারমিন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের সুবিধার্থে ইট বিছানোর কাজ করা হয়েছিল। তখন এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। পৌরসভার কাজ শেষ হওয়ার পর এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন পায়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৪২০ মিটার সড়কে ১০ ইঞ্চি পুরু আরসিসি ঢালাই করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ২৮৫ টাকা। এমএস তানিয়া কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনোজ কুমার আচার্য বলেন, পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করেই তুলে নেওয়া ইটগুলো সেলভেজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার অনাপত্তি রয়েছে। সড়কটি আরসিসি করা হলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সুবিধা বাড়বে।
তবে একই সড়কে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই দপ্তরের উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইট বিছানোর পর তা তুলে ফেলার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল, প্রকল্প গ্রহণের আগে দুই দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না এবং উদ্ধার করা ইটের প্রকৃত মূল্য কত—এসব বিষয় সামনে এসেছে।
সচেতন মহলের দাবি, পুরো প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া, ব্যয়ের হিসাব, কাজের মান এবং উদ্ধার করা ইটের হস্তান্তর ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।