পশ্চিম দিক বা কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেন মুসলমানরা। নামাজ আদায়ের জন্য কিবলার দিকে ফেরা জরুরি। কিবলা ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজের সময় বান্দা বাহ্যিকভাবে কিবলার দিকে মুখ করে এবং তার অন্তর আল্লাহমুখী থাকে।
মুসলিম জাতির জন্য এক কিবলা অর্থাৎ কাবার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের বিধান দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যেখান থেকেই বের হও না কেন, মসজিদুল হারামের (কাবা শরিফের) দিকে মুখ ফেরাতে হবে এবং যেখানেই থাক না কেন, সেই কাবার দিকেই মুখ ফেরাতে হবে (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫০)।
আল্লাহর নবী (সা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন ফরজ-নফল সব নামাজেই কাবা শরিফের দিকে মুখ ফেরাতেন। একজন ভুলবশত অন্য দিকে ফিরে নামাজ আদায় করার ঘটনায় তিনি বলেছিলেন, নামাজে দাঁড়ানোর নিয়ত করার আগে ভালোভাবে অজু করে নিতে হবে, এরপর কিবলার দিকে মুখ করে তাকবির বলতে হবে (বুখারি, মুসলিম)।
কখনো কিবলার দিক নিয়ে সন্দেহ হলে তা জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে এরপর নামাজ আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউকে পাওয়া গেলে তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। না পাওয়া গেলে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করলে সেই নামাজ হয়ে যাবে।
বর্তমানে কিবলার দিক নির্ণয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য অ্যাপের কম্পাস বা অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এসবের মাধ্যমে কিবলার দিক নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সহিহ হবে।
আর চিন্তাভাবনা করে কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করার পর যদি কিবলা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে বিশুদ্ধতম মতানুসারে নামাজ আবার পড়তে হবে না।
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি জানান, তারা এক সফর বা সামরিক অভিযানে রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে ছিলেন। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং তারা কিবলার দিক নির্ণয়ে চিন্তাভাবনা করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মতভেদ হওয়ায় প্রত্যেকে নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত রাখতে তাদের একজন সামনে মাটিতে দাগ টেনে রাখেন। সকালে তারা দেখেন, কিবলার দিকে নয়, বরং অন্য দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছেন। এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে উল্লেখ করলে তিনি জানান, তাদের নামাজ যথেষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না (সুনানে কুবরা, বায়হাকি, ২২৩৫)।
বিখ্যাত ফকিহ মাহমুদ বিন মাযাহ (রহ.) বলেন, কারও কিবলার দিক নির্ণয়ে সন্দেহ হলে এবং যথাযথ চিন্তাভাবনার পর যে দিক কিবলা বলে প্রবল ধারণা হয়, সেদিকে নামাজ আদায় করলে তার নামাজ হয়ে যাবে, যদিও পরে জানা যায় যে তার কিবলার দিক নির্ণয় ভুল হয়েছিল।
তবে কিবলা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে নামাজ আদায় শুরু করার পর যদি নামাজের মাঝে কিবলার সঠিক দিক সম্পর্কে জানা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে ঘুরে যেতে হবে।
kalprakash.com/IM