কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক, নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের সাথে জড়িত লাইলী আক্তার ওরফে ‘লেডি মাস্তান’ লাইলীকে (৪২) ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত (১২ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর) আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে দেবিদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউমার্কেট মেডিনোভা হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত ‘আহসান মঞ্জিল’-এর নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে এক মাদক কারবারি লাইলীর বাসায় ৫০০ পিস ইয়াবার একটি চালান পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে লাইলীকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী তাঁর রান্নাঘরের প্লাস্টিকের চালের ড্রামের ভেতর মাদক লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর নারী কনস্টেবল শাহিনুর আক্তারের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে ড্রামের ভেতর রাখা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের কৌটা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ১৫ পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার টাকা এবং মোট ওজন ১.৫ গ্রাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে এসব মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকারী দল রাত ২টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলেই সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করে এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হানিট্র্যাপ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় এসআই সাগর বড়ুয়া বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM