ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানাধীন ৫ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মণ্ডলাদাম গ্রামে পৈতৃক জমি ও রোপিত গাছপালাকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারীসহ একই পরিবারের অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভূপেন ওরফে যাত্রু বর্মণ (৪৫) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে রুহিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মণ্ডলাদাম গ্রামের মৃত হরে বর্মণের ছেলে ভূপেন বর্মণ দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১০ শতক জমিতে মেহগনি ও আমগাছ রোপণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে প্রতিবেশী কৃষ্ণ বর্মণ, বিন্দা রানী, রাজেন্দ্র নাথ বর্মণ ও ধনা বর্মণ গং জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদী পক্ষ তা মানেনি।
এরই জেরে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিবাদীরা ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে রোপিত গাছপালা ভেঙে ক্ষতিসাধন করে। এ সময় ভূপেন বর্মণ বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র, ধারালো ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকান। এতে তাঁর বাঁ হাতের কবজির নিচে মারাত্মক জখম হয় এবং লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পান।
এ সময় তাঁকে বাঁচাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিওমি রানী এগিয়ে এলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর শ্লীলতাহানি করে কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয় বলেও দাবি করা হয়। পরে সেজো ভাইয়ের স্ত্রী রিক্তা রানী রক্ষা করতে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহত ভূপেন বর্মণ ও নিওমি রানীকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমিটি প্রায় দেড় যুগ ধরে ভূপেন বর্মণই ভোগদখল করে আসছিলেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের রাজেন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। রায়ের পর জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালায় ও পরিবারের নারীদের হেনস্তা করে। গাছ কাটা, আগুন দেওয়া বা শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে রুহিয়া থানা পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM