বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও নানা রকম হয়রানি বন্ধ এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল ‘রিকুইটো’। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল ছাড়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে ও স্বচ্ছ উপায়ে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিকুইটোর প্রতিষ্ঠাতা মো. সিয়াম হোসেন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও জটিলতার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার পর অনেকেই যে কাজের জন্য যাচ্ছেন, সেই কাজটি পাচ্ছেন না; আবার কেউ কেউ কোনো কাজই পাচ্ছেন না। বিভিন্ন এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে যেতে গিয়ে অনেকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সঠিক বেতন না পাওয়া কিংবা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে যে প্রতিষ্ঠানে একজন ব্যক্তি কাজ করতে যাবেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা থাকলে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। মূলত এই ভাবনা থেকেই তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক জব পোর্টাল ‘রিকুইটো’। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য বিদেশি নিয়োগদাতা কোম্পানি এবং বাংলাদেশের যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
রিকুইটো যেভাবে কাজ করবে: বিদেশে কাজ করতে আগ্রহীরা রিকুইটোর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। সেখানে তারা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তুলে ধরতে পারবেন। অন্যদিকে, বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রিকুইটোতে তাদের চাকরির সুযোগ বা পদ শূন্যের তথ্য প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রয়োজন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই করে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবে।
এছাড়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় ভাষাগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে একজন প্রার্থী বিদেশে যাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট কাজ ও পরিবেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, প্রার্থী ও নিয়োগদাতা কোম্পানির মধ্যে সরাসরি ও স্বচ্ছ যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বহু জটিলতা নিরসন সম্ভব।
রিকুইটো প্রতিষ্ঠাতার অভিমত: আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো—বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হবে, প্রচলিত এই ধারণাটি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি বিদেশি নিয়োগদাতা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির সুযোগ তৈরি করা গেলে বিদেশে যাওয়ার মোট ব্যয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ তুলনামূলক কম খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।
উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ও রিকুইটোর শুরু: মো. সিয়াম হোসেন একজন তরুণ উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল মার্কেটার। ২০২২ সালে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসের একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজের সুযোগ পান। সেখানে তাকে মাসিক ১,২০০ ইউরো বেতনে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং মূলত শুধু বিমান টিকেটের খরচ বহন করেই সেখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই সিয়ামের মনে প্রশ্ন জাগে—তিনি যদি শুধু বিমান টিকেটের খরচে বিদেশে গিয়ে কাজের সুযোগ পান, তবে অন্যরা কেন পাবেন না? সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় রিকুইটোর পরিকল্পনা। প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্য কেবল একটি জব পোর্টাল তৈরি করা নয়; বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে প্রার্থী এবং বিদেশি নিয়োগদাতা কোম্পানি সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ, সহজ ও কার্যকর হবে।
kalprakash.com/IM