শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১:০২:৩৩
শিরোনাম
মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

অনুসন্ধানে বাপেক্স কেন পিছিয়ে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২
শেয়ার: mail
অনুসন্ধানে বাপেক্স কেন পিছিয়ে

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অবহেলা, পুরোনো যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সীমিত বিনিয়োগ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।

গ্যাস অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো গড়ে চারটি কূপ খনন করে একটি সফল কূপের সন্ধান পেলেও বাপেক্সের সফলতার হার তুলনামূলকভাবে ভালো। দুইটিরও কম কূপ খনন করে একটি সফল কূপ পাওয়ার নজির রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির। অথচ এই সফলতার পরও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিকায়নের অভাবে বাপেক্সের সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে সীমিত রয়েছে।

১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। কারণ দেশের গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমামের মতে, দীর্ঘদিন বিদেশি কোম্পানিনির্ভর অনুসন্ধান নীতির কারণে বাপেক্স কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশের গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের অবদান বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি অর্থায়ন প্রয়োজন।

পুরোনো রিগেই চলছে খনন

বর্তমানে বাপেক্সের রিগ রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো বিজয়-১০, বিজয়-১১, বিজয়-১২, বিজয়-১৮ ও আইডিএস-১। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব রিগের বয়স প্রায় ১০ থেকে ২৫ বছর। আধুনিক মানদণ্ডের তুলনায় পুরোনো এসব যন্ত্রপাতি দিয়েই বাধ্য হয়ে কূপ খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাপেক্সের পাঁচটি রিগের মধ্যে দুটি মূলত ওয়ার্কওভার এবং তিনটি ড্রিলিং কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব রিগ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলও পর্যাপ্ত নয়।

এ অবস্থায় বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি আধুনিক রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার হর্সপাওয়ারের একটি রিগ কেনার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার আরেকটি রিগ কেনার জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।

জনবল সংকট বড় বাধা

শুধু রিগ কিনলেই বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আধুনিক রিগ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো বছরে সাত থেকে আটটি পর্যন্ত কূপ খনন করতে সক্ষম হলেও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে বাপেক্স বছরে প্রায় একটি কূপ খনন করতে পারে।

বাপেক্সে বেতন কাঠামোও দক্ষ জনবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির তুলনায় কম বেতন হওয়ায় দক্ষ কর্মীদের অনেকেই উচ্চ বেতনের চাকরির দিকে চলে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রিগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন এবং প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

সমুদ্রেও সীমাবদ্ধতা

স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানেও বাপেক্সের সক্ষমতা সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনুসন্ধান জাহাজ নেই। ফলে সমুদ্রের গভীরে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে বাপেক্সের নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন জাহাজ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিওলজিক্যাল ও জিওফিজিক্যাল কার্যক্রমে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ধীরগতি

বাপেক্সের কর্মকর্তাদের মতে, একটি কূপ খননের সিদ্ধান্ত থেকে বাস্তব কাজ শুরু পর্যন্ত দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরি, এরপর বাপেক্সের বোর্ড, পেট্রোবাংলার বোর্ড, মন্ত্রণালয়, অর্থের সংস্থান, পরিকল্পনা কমিশন এবং সর্বশেষে একনেকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে শুরু হয় কূপ খননের কাজ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত কূপ খনন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আলাদা অর্থ বরাদ্দ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকলে বছরে একাধিক কূপ খনন করা সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ ছাড়া কূপ খননের আগে ভূমি প্রস্তুত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে শুধু এই প্রক্রিয়াতেই দীর্ঘ সময় চলে যেতে পারে।

সামনে বড় সুযোগ, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বাপেক্সের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল নিয়োগ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। নতুন কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একাধিক কূপ খনন প্রকল্পে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বাপেক্সকে আন্তর্জাতিক সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, কারিগরি দক্ষতা এবং অভিজ্ঞ জনবল—তিনটিই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বমানের দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

সরকার যখন আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা করছে, তখন বাপেক্সকে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান সক্ষমতা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্স আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

অনুসন্ধানে বাপেক্স কেন পিছিয়ে

বিস্তারিত কমেন্টে