ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ৪৭ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিজিবির কাছে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন—আশিক শিকদার (২৭), তাজুল ইসলাম (২৯), জীবন মিয়া (২৯), সুজন মিয়া (২৪), জাকির মন্ডল (২৫), নাজির গাজী (৩১), উজ্জল হোসেন (৩৬), সাকিব (২৮), কামরুজ্জামান কাজল (৩৪), ইব্রাহিম আলী (৩২), মাসুদ মিয়া (২৪), পলিন গাইনি (৩২), রহিম (২৩), রুহুল ইসলাম (৩২), জালাল উদ্দিন (২৫), ইসমাইল (৩১), মাহরুপ বিল্লাহ সর্দার (৩১), ইসমাইল হোসেন (২১), জীবন মোল্যা (৩২), সান্টু আলী (৩২), নাঈম সরকার (২৩), তহমিনা (২৬), মোছা. মরিয়ম (২৫), রাতুল খান (২৪), আবু ইউসুফ (২৭), আনোয়ার (৩০), রফিজ (২৬), শহিদ প্রামাণিক (৩২), সুরাইয়া আক্তার (২৪), ইসমাইল হোসেন (৩২), আসাদুজ্জামান (৩১), ইয়াছিন মিয়া (২৫), ইকবাল হোসেন (২৩), শরিফুল ইসলাম (৩২), দিলীপ রানা (২৫), শাহীন মোল্যা (৩৪), মাসুম বিল্লাহ সুমন (৩২), ইমরান হোসেন (৩৪) এবং জেসান সরদার (৩২)। তাঁদের বাড়ি নড়াইল, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, প্রায় এক থেকে দুই বছর আগে ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে সে দেশের পুলিশের হাতে তাঁরা আটক হন। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে তামিলনাড়ুর সালেমের আত্তুর ও ত্রিচি ক্যাম্পের শেল্টার হোমে তাঁদের আশ্রয় হয়। এরপর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হবে। সেখান থেকে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের তিনটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবে।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির যশোর এরিয়া কোঅর্ডিনেটর রেখা বিশ্বাস বলেন, আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসাদের যশোরে নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
kalprakash.com/IM