মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলার। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও মে মাসের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। দিনের লেনদেন শেষে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়ায় ১০৩ দশমিক ৮২ ডলার, যা একদিনে বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ নিয়ে অনিশ্চয়তাই তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ ইমার্জিং মার্কেটস ইকোনমিস্ট জেসন টুভে এক নোটে জানান, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হুথিদের সৌদি আরবে হামলা বৃদ্ধির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তার মতে, এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেও জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো নিজেদের পূর্বাভাসে পরিবর্তন এনেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা তারা আর করছে না।
একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এ সময়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু তেলের বাজার নয়, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।