মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য থেকেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস মিলতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জিএমটি সময় সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৫ দশমিক শূন্য ৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো জানান, ডলারের সামান্য দুর্বলতা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক, কারণ সাধারণত ডলার সূচকের সঙ্গে স্বর্ণের দামের বিপরীত সম্পর্ক থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদাকে শক্তিশালী করছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে। বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
এদিকে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এলে আগামী সপ্তাহেই সুদের হার বাড়াতে পারে ফেড, যা মূল্যবান এই ধাতুর দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বশেষ দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৯৩৩ টাকা কমে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৭০০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
kalprakash.com/IM