শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:১১:১২
শিরোনাম
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই অনুসন্ধানে বাপেক্স কেন পিছিয়ে জামায়াত নেতার গোডাউনে সরকারি চাল আইসিসিবিতে শুরু বাপা ফুডপ্রো এক্সপো, অংশ নিচ্ছে ২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই অনুসন্ধানে বাপেক্স কেন পিছিয়ে জামায়াত নেতার গোডাউনে সরকারি চাল আইসিসিবিতে শুরু বাপা ফুডপ্রো এক্সপো, অংশ নিচ্ছে ২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড

নবীজি (সা.)-এর সংগ্রামময় জীবন আমাদের জন্য অনন্য প্রেরণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭
শেয়ার: mail
নবীজি (সা.)-এর সংগ্রামময় জীবন আমাদের জন্য অনন্য প্রেরণা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পুরো জীবনই মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস এবং সঠিক পথের দিশা। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়, প্রতিটি পদক্ষেপ ও প্রতিটি কর্মে রয়েছে মানুষের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা। তাঁর জীবনযাপন, আচার-আচরণ, আনন্দ-বেদনা, সংকট ও সাফল্য—সবকিছুতেই রয়েছে আমাদের জন্য মূল্যবান পাথেয়। বিশেষ করে তাঁর সংগ্রামময় জীবন একজন মুমিনকে কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, বিশ্বাস ও আদর্শে অটল থাকার শিক্ষা দেয়।

জীবনের নানা সংকট, অভাব ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে নবীজি (সা.)-এর জীবন আমাদের আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখায়। এমন কোনো প্রতিকূলতা নেই, যার মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়নি। কিন্তু প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতেই তিনি ছিলেন মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল, নিজের আদর্শে অবিচল এবং অসীম ধৈর্যের অধিকারী।

তাঁর সংগ্রামময় জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—কীভাবে কঠিন সময়েও বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ ধরে রাখতে হয়, কীভাবে কষ্টকে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, ব্যর্থতার পর নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয় এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ন্যায় ও মানবিকতার পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না। একই সঙ্গে সাফল্য অর্জনের পরও কীভাবে বিনয়ী থাকতে হয়, তাঁর জীবন তার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।

শৈশব থেকেই পরীক্ষার শুরু

নবীজি (সা.)-এর সংগ্রামের শুরু হয়েছিল শৈশবেই। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। এরপর অল্প বয়সে হারান স্নেহময়ী মা আমিনা (রা.) ও দাদা আবদুল মুত্তালিবকে। একের পর এক আপনজন হারিয়ে যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছিল, তা ছিল তাঁর জীবনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর অন্যতম।

পার্থিব অবলম্বন কমে গেলেও তিনি মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে জীবন এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের জীবনই যেন প্রমাণ করে—প্রতিকূলতা মানুষের পথ থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য থাকলে তা অতিক্রম করাও সম্ভব।

দাওয়াতের পথে কঠিন পরীক্ষা

নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর মক্কায় ইসলামের দাওয়াত শুরু করলে তাঁর জীবনে নেমে আসে আরও কঠিন পরীক্ষা। যে মক্কাবাসীরা তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য তাঁকে ‘আল-আমিন’ নামে সম্মানিত করেছিল, তাদের অনেকেই পরে তাঁর বিরোধিতায় কঠোর অবস্থান নেয়।

ইসলামের দাওয়াত বন্ধ করতে তাঁকে নানা ধরনের অপমান, উপহাস ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, নানা অপবাদ দেওয়া এবং শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি সত্যের দাওয়াত থেকে সরে যাননি।

‘আমুল হুজন’—শোকের বছর

নবুওয়াতের দশম বছর ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। এ সময় তিনি হারান তাঁর প্রিয় সহধর্মিণী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালিবকে। তাঁরা ছিলেন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়। পরপর দুই আপনজনকে হারানোর শোক তাঁর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তবু তিনি দায়িত্ব ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

এর আগে কুরাইশদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে তাঁকে ও তাঁর বংশের লোকজনকে শিআবে আবি তালিবে দীর্ঘ সময় কঠিন জীবনযাপন করতে হয়েছিল। খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের মধ্যেও তাঁরা নিজেদের বিশ্বাস ও নীতিতে অটল ছিলেন। এই অধ্যায় ধৈর্য ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।

হিজরত ও নতুন সমাজের নির্মাণ

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত ছিল নবীজি (সা.)-এর জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রিয় জন্মভূমি ও স্বজনদের ছেড়ে নতুন শহরে যাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু মদিনায় পৌঁছানোর পরও তাঁর সামনে বিশ্রামের সুযোগ ছিল না। সেখানে ছিল নতুন সমাজ গঠন, মুহাজিরদের পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বড় দায়িত্ব।

মদিনায় তিনি মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করেন। মদিনার আনসাররা মক্কা থেকে আগত মুহাজিরদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহায়তা করেন। এই মানবিক ও সামাজিক সংহতি একটি নতুন সমাজব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নবীজি (সা.) শুধু ধর্মের প্রচারক হিসেবেই নয়, একজন মহান সমাজসংস্কারক হিসেবেও মানুষের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মদিনায় যে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সংগ্রাম থেকে শিক্ষা

সাফল্যের পথ কখনোই পুরোপুরি মসৃণ নয়। ত্যাগ, ধৈর্য ও নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়েই মানুষ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন সেই সত্যের উজ্জ্বল উদাহরণ।

আজ ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনের নানা সংকটে মানুষ যখন দিশাহারা হয়ে পড়ে, তখন নবীজি (সা.)-এর জীবন থেকে ধৈর্য, ন্যায়, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা নেওয়া যায়।

তাই নবী করিম (সা.)-এর জীবনী শুধু পড়ার বিষয় নয়; তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তা নিজেদের আচরণ ও জীবনে প্রয়োগ করাই প্রকৃত সিরাতচর্চার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সংগ্রামময় জীবন আমাদের শেখায়—কঠিন সময় যত দীর্ঘই হোক, বিশ্বাস, ধৈর্য ও সঠিক আদর্শ আঁকড়ে থাকলে মানুষ সংকট অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নবীজি (সা.)-এর সংগ্রামময় জীবন আমাদের জন্য অনন্য প্রেরণা

বিস্তারিত কমেন্টে