বাংলাদেশ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ Logo নওগাঁয় জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, নারীসহ আহত ৪ Logo গঙ্গাচড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা Logo এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান Logo আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

বাগমারায় দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে একসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি পেল জমজ ভাই-বোন

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অন্যের জমিতে শ্রম দেন বাবা। সংসারের অভাব-অনটনের মাঝেও দুই সন্তানের পড়াশোনা যেন থেমে না যায়—সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন বাবা-মা। সেই ত্যাগ, কষ্ট ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি মিলেছে এবার। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমজ ভাই-বোন শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মী একসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

জানা গেছে, দুই সন্তানের বাবা শামীম প্রামাণিক একজন দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। অভাবের কারণে অনেক সময় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনো আপস করেননি বাবা-মা। নিজেদের কষ্ট আড়াল করে বই-খাতা, স্কুলের খরচ এবং লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন সবসময়।

সন্তানদের এই অর্জনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা আফরোজা। তিনি বলেন, আমরা খুব গরিব মানুষ। আমার স্বামী অন্যের জমিতে কাজ করে যা রোজগার করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। অনেক সময় নিজের জন্য কিছু কিনিনি, শুধু ভেবেছি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়। কত রাত চিন্তায় কেটেছে, কীভাবে তাদের পড়ার খরচ দেব। আজ আমার জমজ ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বৃত্তি পেয়েছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হচ্ছে, আমাদের সব কষ্ট আজ সার্থক হয়েছে। আমি চাই, তারা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক।

একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাহাদুর রহমান বকুল বলেন, শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মী অত্যন্ত মেধাবী, নিয়মিত ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা যেভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একসঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়।

এলাকাবাসীর মতে, শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মীর এই সাফল্য প্রমাণ করে, দারিদ্র্য কখনো মেধা ও স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সঠিক সুযোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একটি সংগ্রামী পরিবার থেকেও জাতির জন্য গর্ব বয়ে আনা সম্ভব।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’

বাগমারায় দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে একসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি পেল জমজ ভাই-বোন

প্রকাশিত: ০৭:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অন্যের জমিতে শ্রম দেন বাবা। সংসারের অভাব-অনটনের মাঝেও দুই সন্তানের পড়াশোনা যেন থেমে না যায়—সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন বাবা-মা। সেই ত্যাগ, কষ্ট ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি মিলেছে এবার। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমজ ভাই-বোন শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মী একসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

জানা গেছে, দুই সন্তানের বাবা শামীম প্রামাণিক একজন দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। অভাবের কারণে অনেক সময় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনো আপস করেননি বাবা-মা। নিজেদের কষ্ট আড়াল করে বই-খাতা, স্কুলের খরচ এবং লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন সবসময়।

সন্তানদের এই অর্জনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা আফরোজা। তিনি বলেন, আমরা খুব গরিব মানুষ। আমার স্বামী অন্যের জমিতে কাজ করে যা রোজগার করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। অনেক সময় নিজের জন্য কিছু কিনিনি, শুধু ভেবেছি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়। কত রাত চিন্তায় কেটেছে, কীভাবে তাদের পড়ার খরচ দেব। আজ আমার জমজ ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বৃত্তি পেয়েছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হচ্ছে, আমাদের সব কষ্ট আজ সার্থক হয়েছে। আমি চাই, তারা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক।

একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাহাদুর রহমান বকুল বলেন, শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মী অত্যন্ত মেধাবী, নিয়মিত ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা যেভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একসঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়।

এলাকাবাসীর মতে, শামিউল ইসলাম শামস ও শুহরাত জাহান শাম্মীর এই সাফল্য প্রমাণ করে, দারিদ্র্য কখনো মেধা ও স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সঠিক সুযোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একটি সংগ্রামী পরিবার থেকেও জাতির জন্য গর্ব বয়ে আনা সম্ভব।

kalprakash.com/IM