বাংলাদেশ ০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে শ্রীপুর বাঁধে ১২ স্থানে ধস, পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় ৩০ হাজার মানুষ

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন সড়কের অন্তত ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়। ফলে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নদীর পানি প্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করলে চাপড়া, পুটিমারি, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রাম এবং কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হতে পারে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যেতে পারে।

দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, বাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। এই সড়ক দিয়েই এলাকার অধিকাংশ মানুষ চলাচল করেন। এখন বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ছে। ধসে যাওয়া অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করলে পানি গ্রামে ঢুকে ভয়াবহ ক্ষতি হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. পলাশ মিয়া বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের অন্তত ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখনই সংস্কার করা প্রয়োজন। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আর কিছুটা বাড়লেই শ্রীপুর ইউনিয়নের বড় অংশ প্লাবিত হবে। নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও গবাদিপশু নিয়েও চরম সংকট দেখা দেবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত অবহিত করা হবে।

 

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ

টানা বৃষ্টিতে শ্রীপুর বাঁধে ১২ স্থানে ধস, পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় ৩০ হাজার মানুষ

প্রকাশিত: ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন সড়কের অন্তত ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের টানা বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়। ফলে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নদীর পানি প্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করলে চাপড়া, পুটিমারি, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রাম এবং কয়েকটি হাটবাজার প্লাবিত হতে পারে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যেতে পারে।

দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান (৬০) বলেন, বাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। এই সড়ক দিয়েই এলাকার অধিকাংশ মানুষ চলাচল করেন। এখন বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ছে। ধসে যাওয়া অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করলে পানি গ্রামে ঢুকে ভয়াবহ ক্ষতি হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. পলাশ মিয়া বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের অন্তত ১২টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখনই সংস্কার করা প্রয়োজন। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আর কিছুটা বাড়লেই শ্রীপুর ইউনিয়নের বড় অংশ প্লাবিত হবে। নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও গবাদিপশু নিয়েও চরম সংকট দেখা দেবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত অবহিত করা হবে।

 

kalprakash.com/IM