বাংলাদেশ ০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭ ঘরই ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭টি ঘর বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকলেও সরকারি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় খলিশাডহুরা এলাকায় ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। নির্মাণ শেষে ঘরগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সবগুলোই তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন কেউ বসবাস না করায় ঘরগুলোর চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দায় জমেছে আবর্জনা। কয়েকটি ঘরের সামনে রাখা হয়েছে ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও ধানের খড়। কিছু ঘরের দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগী নির্বাচন করায় প্রকল্প এলাকার আশপাশের প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলো ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি, হাজীপুর ও খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকজন জানান, তাদের কর্মস্থল ও ব্যবসা বালিয়াটি এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন এত দূর থেকে যাতায়াত করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই তারা ঘরগুলো ব্যবহার করছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানুষের বসবাস না থাকায় চারপাশ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা ঘরের বারান্দায় ট্রাক্টর, মাটি, গোবরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখছে। এতে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জঙ্গলে ঢেকে গেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লা বলেন, “প্রকল্পটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ১৭টি ঘরের সবকটিই তালাবদ্ধ এবং সেখানে কোনো উপকারভোগী বসবাস করছেন না।”

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “যারা বরাদ্দ পাওয়া ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭ ঘরই ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

প্রকাশিত: ০১:২১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭টি ঘর বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকলেও সরকারি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় খলিশাডহুরা এলাকায় ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। নির্মাণ শেষে ঘরগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সবগুলোই তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন কেউ বসবাস না করায় ঘরগুলোর চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দায় জমেছে আবর্জনা। কয়েকটি ঘরের সামনে রাখা হয়েছে ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও ধানের খড়। কিছু ঘরের দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগী নির্বাচন করায় প্রকল্প এলাকার আশপাশের প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলো ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি, হাজীপুর ও খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকজন জানান, তাদের কর্মস্থল ও ব্যবসা বালিয়াটি এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন এত দূর থেকে যাতায়াত করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই তারা ঘরগুলো ব্যবহার করছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানুষের বসবাস না থাকায় চারপাশ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা ঘরের বারান্দায় ট্রাক্টর, মাটি, গোবরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখছে। এতে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জঙ্গলে ঢেকে গেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লা বলেন, “প্রকল্পটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ১৭টি ঘরের সবকটিই তালাবদ্ধ এবং সেখানে কোনো উপকারভোগী বসবাস করছেন না।”

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “যারা বরাদ্দ পাওয়া ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”