দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং টেলিযোগাযোগ খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগণের কাছে ৫-জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সারাদেশে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এ পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য আইসিটি ও টেলিকম খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান বর্তমান ১-২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ওয়্যারলেস ও ফাইবারভিত্তিক সংযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ‘ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বিস্তারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ও স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ট্রেন ও বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে উচ্চগতির বিনামূল্যের ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
সরকারের প্রত্যাশা, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে আরও এগিয়ে যাবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























