বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি বাওয়ালীপাড়া গ্রামের অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ শিউলী রানী মন্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে জেলা পরিষদের ২০ হাজার টাকার অনুদান মৃত গৃহবধূর স্বামী নিত্য মন্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে রান্নাঘরে ভাত রান্নার সময় অসাবধানতাবশত আগুনে দগ্ধ হন শিউলী রানী মন্ডল (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তার অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী। গৃহবধূর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেনকে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে রোগীর খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি শুকনা খাবার, শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর দেশের বাইরে অবস্থানরত এক প্রবাসীও আর্থিক সহায়তা পাঠান, যা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন ও প্রেসক্লাব সভাপতি একরামুল হক মুন্সীর উদ্যোগে জেলা পরিষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হয়। পরে শিউলী রানী মন্ডলকে খুলনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কিছুদিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এরই মধ্যে জেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদান মঞ্জুর হলেও মৃত্যু সনদ ও জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চেকের অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। এ সময় তৎকালীন ইউএনওর বদলি হলেও তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় চেকটি সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রেসক্লাব সভাপতি একরামুল হক মুন্সীর কাছে অর্পণ করে যান।
পরে নবাগত ইউএনও খাদিজা আক্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিউলী রানী মন্ডলের স্বামী নিত্য মন্ডলের হাতে জেলা পরিষদের ২০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেন ইউএনও খাদিজা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিত্য মন্ডলের বোন অঞ্জু মন্ডল, চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স মন্ডল অলিফ।
স্থানীয়রা বলেন, প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—‘মানুষ মানুষের জন্য’ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 



















