উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই। রবিবার (১ জুন) রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। পারিবারিক সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় অসুস্থ থাকার পর মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর খবরে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত, সহশিল্পী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় বলেন, ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্রে সুমন কল্যাণপুরের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তার গান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।
ষাট ও সত্তরের দশকে হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেন। ‘ব্রহ্মচারী’ সিনেমার ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ‘জব জব ফুল খিলে’ ছবির ‘না না কারতে প্যায়ার’ এবং ‘রাজকুমার’ ছবির ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’ তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম।
হিন্দি গানের পাশাপাশি বাংলা গানেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। তার কণ্ঠে গাওয়া ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি ১১টি ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান রেকর্ড করেছেন। কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গে তার দ্বৈত গানগুলো বিশেষভাবে সমাদৃত। ভজন, গজলসহ বিভিন্ন ধারার সংগীতেও তার দক্ষতা ছিল প্রশংসিত।
লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তার কণ্ঠের সাদৃশ্য নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা থাকলেও তিনি সবসময় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একমাত্র কন্যা চারুকে রেখে গেছেন। মুম্বাইয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
kalprakash.com/SS
বিনোদন ডেস্ক 























