বাংলাদেশ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ভুল থেকে মহাসৌভাগ্য: যেভাবে আবিষ্কৃত হলো আধুনিক দিয়াশলাই

সংগৃহীত ছবি

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮২৬ সালের এক সাধারণ দিনে রসায়নাগারে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট ভুলই বদলে দিয়েছিল মানবসভ্যতার ইতিহাস। আগুন জ্বালানোর আদিম ও কষ্টসাধ্য পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে জন্ম নেয় আধুনিক দিয়াশলাই বা ম্যাচ। একটি অসতর্ক মুহূর্তের সেই ‘ভুল’ই পরবর্তীতে মানবজাতির জন্য হয়ে ওঠে এক মহাসৌভাগ্য।

আধুনিক দিয়াশলাইয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইংরেজ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার। ১৭৮১ সালে ইংল্যান্ডের স্টকটন-অন-টিস শহরে তার জন্ম। প্রথমে তিনি সার্জন হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও অপারেশন থিয়েটারের কঠিন পরিবেশ সহ্য করতে না পেরে পেশা বদলে ড্রাগিস্ট বা ওষুধ বিক্রেতা হন। পাশাপাশি রাসায়নিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছিল তার প্রধান আগ্রহ।

১৮২৬ সালের একদিন গবেষণাগারে কাজ করার সময় একটি রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করার পর একটি কাঠিতে সেই পদার্থ লেগে যায়। পরে সেটি ফায়ারপ্লেসের পাশে শুকাতে রাখা হলে, পরিষ্কার করতে গিয়ে পাথরের সঙ্গে ঘষা লাগতেই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনাই ঘর্ষণে আগুন জ্বালানোর প্রথম বাস্তব ধারণা তৈরি করে।

এরপর ওয়াকার এই আবিষ্কারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বুঝতে পেরে এটিকে ‘ফ্রিকশন ম্যাচেস’ নামে বাজারজাত করেন। ১৮২৭ সালের এপ্রিল মাসে এটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিকের ম্যাচ ছিল পাতলা কাঠির মাথায় রাসায়নিক মিশ্রণ লাগানো, যা স্যান্ডপেপারে ঘষলেই জ্বলে উঠত। তবে এগুলো পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করত।

জন ওয়াকার তার আবিষ্কারের সূত্র গোপন রাখলেও পেটেন্ট করেননি। ফলে খুব দ্রুতই অন্যরা এটি নকল ও উন্নত করার সুযোগ পায়। ১৮২৯ সালে লন্ডনে ‘লুসিফার’ নামে অনুরূপ ম্যাচ বাজারে আসে এবং ১৮৪৪ সালে সুইডিশ সংস্করণ আধুনিক ম্যাচকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।

শিল্প বিপ্লবের সময়ে আগুন জ্বালানো ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সময়ে দিয়াশলাই আগুন জ্বালানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিয়ে গৃহস্থালি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটায়। পরে এটি একটি বড় গৃহভিত্তিক শিল্পে পরিণত হয়, যেখানে বহু দরিদ্র পরিবার জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায়।

পরবর্তীতে সিগারেট লাইটারের আবিষ্কারের কারণে ম্যাচ শিল্প কিছুটা সংকটে পড়লেও, এটি এখনও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক সময়ে সাধারণ ব্যবহার ছাড়াও শৌখিন ও কাস্টমাইজড দিয়াশলাই একটি ফ্যাশন পণ্যে পরিণত হয়েছে, যার দাম কখনও কখনও বহু ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

একটি ছোট ভুল, একটি সাধারণ কাঠি এবং এক অসচেতন মুহূর্ত—এই তিনটি মিলেই মানবসভ্যতাকে দিয়েছে এমন এক আবিষ্কার, যা আগুন জ্বালানোর ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

ভুল থেকে মহাসৌভাগ্য: যেভাবে আবিষ্কৃত হলো আধুনিক দিয়াশলাই

প্রকাশিত: ০৪:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮২৬ সালের এক সাধারণ দিনে রসায়নাগারে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট ভুলই বদলে দিয়েছিল মানবসভ্যতার ইতিহাস। আগুন জ্বালানোর আদিম ও কষ্টসাধ্য পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে জন্ম নেয় আধুনিক দিয়াশলাই বা ম্যাচ। একটি অসতর্ক মুহূর্তের সেই ‘ভুল’ই পরবর্তীতে মানবজাতির জন্য হয়ে ওঠে এক মহাসৌভাগ্য।

আধুনিক দিয়াশলাইয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইংরেজ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার। ১৭৮১ সালে ইংল্যান্ডের স্টকটন-অন-টিস শহরে তার জন্ম। প্রথমে তিনি সার্জন হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও অপারেশন থিয়েটারের কঠিন পরিবেশ সহ্য করতে না পেরে পেশা বদলে ড্রাগিস্ট বা ওষুধ বিক্রেতা হন। পাশাপাশি রাসায়নিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছিল তার প্রধান আগ্রহ।

১৮২৬ সালের একদিন গবেষণাগারে কাজ করার সময় একটি রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করার পর একটি কাঠিতে সেই পদার্থ লেগে যায়। পরে সেটি ফায়ারপ্লেসের পাশে শুকাতে রাখা হলে, পরিষ্কার করতে গিয়ে পাথরের সঙ্গে ঘষা লাগতেই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনাই ঘর্ষণে আগুন জ্বালানোর প্রথম বাস্তব ধারণা তৈরি করে।

এরপর ওয়াকার এই আবিষ্কারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বুঝতে পেরে এটিকে ‘ফ্রিকশন ম্যাচেস’ নামে বাজারজাত করেন। ১৮২৭ সালের এপ্রিল মাসে এটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিকের ম্যাচ ছিল পাতলা কাঠির মাথায় রাসায়নিক মিশ্রণ লাগানো, যা স্যান্ডপেপারে ঘষলেই জ্বলে উঠত। তবে এগুলো পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করত।

জন ওয়াকার তার আবিষ্কারের সূত্র গোপন রাখলেও পেটেন্ট করেননি। ফলে খুব দ্রুতই অন্যরা এটি নকল ও উন্নত করার সুযোগ পায়। ১৮২৯ সালে লন্ডনে ‘লুসিফার’ নামে অনুরূপ ম্যাচ বাজারে আসে এবং ১৮৪৪ সালে সুইডিশ সংস্করণ আধুনিক ম্যাচকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।

শিল্প বিপ্লবের সময়ে আগুন জ্বালানো ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সময়ে দিয়াশলাই আগুন জ্বালানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিয়ে গৃহস্থালি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটায়। পরে এটি একটি বড় গৃহভিত্তিক শিল্পে পরিণত হয়, যেখানে বহু দরিদ্র পরিবার জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায়।

পরবর্তীতে সিগারেট লাইটারের আবিষ্কারের কারণে ম্যাচ শিল্প কিছুটা সংকটে পড়লেও, এটি এখনও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক সময়ে সাধারণ ব্যবহার ছাড়াও শৌখিন ও কাস্টমাইজড দিয়াশলাই একটি ফ্যাশন পণ্যে পরিণত হয়েছে, যার দাম কখনও কখনও বহু ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

একটি ছোট ভুল, একটি সাধারণ কাঠি এবং এক অসচেতন মুহূর্ত—এই তিনটি মিলেই মানবসভ্যতাকে দিয়েছে এমন এক আবিষ্কার, যা আগুন জ্বালানোর ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।

kalprakash.com/SS