বাংলাদেশ ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

গরুর মাংসের শুঁটকিতে পুষ্টিগুণ কি অক্ষুণ্ণ থাকে? জানুন তৈরির পদ্ধতি

সংগৃহীত ছবি

কোরবানি ঈদে ঘরে ঘরে মাংস রান্নার পাশাপাশি বড় একটি চিন্তা থাকে—বেশি পরিমাণ মাংস কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। আধুনিক যুগে ফ্রিজ সহজ সমাধান হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সীমিত সংরক্ষণ সক্ষমতার কারণে অনেকেই আবার ফিরে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ‘গরুর মাংসের শুঁটকি’-তে।

একসময় গ্রামের ঘরোয়া প্রয়োজনে শুরু হওয়া এই পদ্ধতি এখন শহরেও নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু খাদ্য সংরক্ষণ নয়, বরং অপচয় কমিয়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর কৌশলও।

ঐতিহ্য থেকে আধুনিক ব্যবহারে শুঁটকি

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গ্রামীণ সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মাছের পাশাপাশি মাংসও শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। রেফ্রিজারেটর না থাকায় লবণ, হলুদ ও মসলা মাখিয়ে রোদে শুকানো ছিল একমাত্র উপায়।

ঈদুল আজহার সময় অতিরিক্ত কোরবানির মাংস নষ্ট না করে এভাবে সংরক্ষণ করা হতো, যা পরে ধীরে ধীরে ব্যবহার করা যেত। বর্তমানে অনেক পরিবারই আবার এই ঐতিহ্য অনুসরণ করছে।

পুষ্টিগুণ কি একই থাকে?

পুষ্টিবিদদের মতে, শুঁটকি করার পরও গরুর মাংসে থাকা প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, শুঁটকি করলে প্রোটিনের গুণগত মান বড় ধরনের পরিবর্তন হয় না। তবে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সঠিক হওয়া জরুরি।

পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, শুঁটকি করার ফলে পানি কমে যাওয়ায় একই ওজনে পুষ্টির ঘনত্ব বেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গরুর মাংসের শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি

শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়—

  • চর্বি ও হাড় ছাড়া মাংস নির্বাচন করা হয়
  • ছোট টুকরো করে আদা, রসুন, হলুদ, লবণ ও মসলা দিয়ে সেদ্ধ করা হয়
  • সেদ্ধ মাংস পানি ঝরিয়ে খোলা রোদে শুকানো হয়
  • রোদ না থাকলে চুলার তাপ বা ওভেন ব্যবহার করা হয়

সঠিকভাবে শুকালে এটি ফ্রিজে ৬–৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

রান্নার নিয়ম

শুঁটকি রান্নার আগে গরম পানিতে ভিজিয়ে নরম করা হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, গরম মসলা, আলু ও মরিচ দিয়ে কষিয়ে রান্না করা হয়। পানি শুকিয়ে তেল ওপরে উঠলে ভাত বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

সতর্কতা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে। তাই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—

  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস ব্যবহার না করা
  • পর্যাপ্ত রোদে ভালোভাবে শুকানো
  • অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলা

শেষ কথা

গরুর মাংসের শুঁটকি শুধু একটি ঐতিহ্য নয়, বরং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি পুষ্টিগুণ বজায় রেখেই দীর্ঘদিন সংরক্ষণের একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
গরুর মাংসের শুঁটকিতে পুষ্টিগুণ কি অক্ষুণ্ণ থাকে? জানুন তৈরির পদ্ধতি
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর মাংসের শুঁটকিতে পুষ্টিগুণ কি অক্ষুণ্ণ থাকে? জানুন তৈরির পদ্ধতি

প্রকাশিত: ০৪:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কোরবানি ঈদে ঘরে ঘরে মাংস রান্নার পাশাপাশি বড় একটি চিন্তা থাকে—বেশি পরিমাণ মাংস কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। আধুনিক যুগে ফ্রিজ সহজ সমাধান হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সীমিত সংরক্ষণ সক্ষমতার কারণে অনেকেই আবার ফিরে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ‘গরুর মাংসের শুঁটকি’-তে।

একসময় গ্রামের ঘরোয়া প্রয়োজনে শুরু হওয়া এই পদ্ধতি এখন শহরেও নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু খাদ্য সংরক্ষণ নয়, বরং অপচয় কমিয়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর কৌশলও।

ঐতিহ্য থেকে আধুনিক ব্যবহারে শুঁটকি

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গ্রামীণ সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মাছের পাশাপাশি মাংসও শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। রেফ্রিজারেটর না থাকায় লবণ, হলুদ ও মসলা মাখিয়ে রোদে শুকানো ছিল একমাত্র উপায়।

ঈদুল আজহার সময় অতিরিক্ত কোরবানির মাংস নষ্ট না করে এভাবে সংরক্ষণ করা হতো, যা পরে ধীরে ধীরে ব্যবহার করা যেত। বর্তমানে অনেক পরিবারই আবার এই ঐতিহ্য অনুসরণ করছে।

পুষ্টিগুণ কি একই থাকে?

পুষ্টিবিদদের মতে, শুঁটকি করার পরও গরুর মাংসে থাকা প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, শুঁটকি করলে প্রোটিনের গুণগত মান বড় ধরনের পরিবর্তন হয় না। তবে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সঠিক হওয়া জরুরি।

পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, শুঁটকি করার ফলে পানি কমে যাওয়ায় একই ওজনে পুষ্টির ঘনত্ব বেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গরুর মাংসের শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি

শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়—

  • চর্বি ও হাড় ছাড়া মাংস নির্বাচন করা হয়
  • ছোট টুকরো করে আদা, রসুন, হলুদ, লবণ ও মসলা দিয়ে সেদ্ধ করা হয়
  • সেদ্ধ মাংস পানি ঝরিয়ে খোলা রোদে শুকানো হয়
  • রোদ না থাকলে চুলার তাপ বা ওভেন ব্যবহার করা হয়

সঠিকভাবে শুকালে এটি ফ্রিজে ৬–৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

রান্নার নিয়ম

শুঁটকি রান্নার আগে গরম পানিতে ভিজিয়ে নরম করা হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, গরম মসলা, আলু ও মরিচ দিয়ে কষিয়ে রান্না করা হয়। পানি শুকিয়ে তেল ওপরে উঠলে ভাত বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

সতর্কতা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে। তাই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—

  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস ব্যবহার না করা
  • পর্যাপ্ত রোদে ভালোভাবে শুকানো
  • অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলা

শেষ কথা

গরুর মাংসের শুঁটকি শুধু একটি ঐতিহ্য নয়, বরং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি পুষ্টিগুণ বজায় রেখেই দীর্ঘদিন সংরক্ষণের একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
গরুর মাংসের শুঁটকিতে পুষ্টিগুণ কি অক্ষুণ্ণ থাকে? জানুন তৈরির পদ্ধতি