মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
শুক্রবার (২৯ মে) এক যৌথ সতর্কবার্তায় সংস্থাগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আসন্ন গ্রীষ্মে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক মজুদ দ্রুত কমছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বাড়ার আগেই তেলের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
সংস্থাগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং অনেক দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তারা আরও সতর্ক করে জানায়, চলমান সংঘাতের কারণে সারের দামও বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কম আয়ের ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ, যারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি করে, তারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে।
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএ এর আগে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে সহায়তা দিতে যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে কাজ চলছে।
আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে এবং দুর্বল দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশও একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের জন্য আলোচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে জ্বালানি, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















