কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে এখন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার করে গরু কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করে হাটে তুলছেন, যা দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও আসলে অসুস্থ এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুস্থ ও কোরবানির উপযুক্ত গরু চেনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, স্টেরয়েড দেওয়া গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ও নরম থাকে, আঙুল দিয়ে চাপ দিলে দাগ পড়ে এবং তা দ্রুত আগের অবস্থায় ফেরে না। অন্যদিকে সুস্থ গরুর শরীর শক্ত ও স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া সুস্থ গরু সাধারণত চটপটে ও সক্রিয় থাকে, কিন্তু অসুস্থ বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু ভারী শরীরের কারণে অলস ও ক্লান্ত দেখায় এবং ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অসুস্থ গরু দ্রুত হাঁপাতে পারে এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা ঝরতে পারে, যেখানে সুস্থ গরু স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেয় এবং খাবার দেখলে খেতে আগ্রহী হয়। সুস্থ গরুর নাক কিছুটা ভেজা থাকে, কিন্তু অসুস্থ গরুর নাক শুষ্ক দেখা যায়। পাশাপাশি সুস্থ গরুর মাংস টানটান ও দৃঢ় থাকে এবং শরীরের গঠন স্বাভাবিক থাকে, আর কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরুর শরীর তুলনামূলক থলথলে ও নরম হয়। এছাড়া সুস্থ গরুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং পাঁজরের হাড় কিছুটা স্পষ্ট বোঝা যায়, যা তার প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষণ।
ধর্মীয় দিক থেকেও কোরবানির পশুর কিছু শর্ত রয়েছে। গরুর বয়স অন্তত দুই বছর হতে হবে, যা সাধারণত দাঁত দেখে বোঝা যায়—নিচের সামনের অংশে দুটি স্থায়ী দাঁত উঠলে সেটি কোরবানির উপযুক্ত ধরা হয়। এছাড়া পশুটি অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত হতে হবে; যেমন শিং ভাঙা, লেজ কাটা, চোখ নষ্ট বা বড় ধরনের শারীরিক ক্ষত থাকা পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। গাভির ক্ষেত্রে গর্ভবতী কি না তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গর্ভবতী গাভি কোরবানি না করাই উত্তম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয় খেয়াল রেখে পশু নির্বাচন করলে শুধু ধর্মীয় বিধানই সঠিকভাবে পালন হয় না, বরং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও অনেকাংশে এড়ানো যায়।
অনলাইন ডেস্ক 

























