রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাজিরা দিতে এসে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দোসর ছিলাম, স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছি। পাকিস্তান ভেঙেছি। তারই জন্য আজকে এখানে এসেছি।’
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা দেন তিনি। পরে আদালত তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করেন। যদিও লতিফ সিদ্দিকী বিচারককে জানান, তিনি নিজেই আদালতে এসে হাজিরা দিতে চান।
এসময় বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এভাবে বিচারব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাস আগে এ মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আজকে এ আদেশ দিলেন।’
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতে আসব, হাজিরা দেব। আমার আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’
জবাবে বিচারক বলেন, ‘সেটা আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’
পরে গণমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, দেশে প্রকৃত আইনের শাসন আছে কিনা, তা আদালতে এলে বোঝা যায়। সেই অনুভূতিকে জাগ্রত রাখতেই তিনি আদালতে আসেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। তবে তার মক্কেল স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত থাকতে চান।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠন গত ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তারা অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























