বাংলাদেশ ১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

কালিহাতী থানার ওসির বিরুদ্ধে লাগাতার উৎকোচ গ্রহণ ও পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিস্তর অভিযোগ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে ঢালাও উৎকোচ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় এবং ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, কালিহাতী থানায় জিডি বা মামলা করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া এলাকার বালু ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকেও নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে কালিহাতী থানায় কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলেও একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, একটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ মীমাংসা করতে গিয়ে ওসি তৌফিক আযম মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। অপর এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাব খাটিয়ে ওসি তৌফিক আযম স্থানীয় নিরপরাধ ব্যক্তিদের নানাভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায়ে লিপ্ত রয়েছেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আটক না করে তাদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করে নিরাপদে এলাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কালিহাতীর এই অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বল্লা, কোকডহরা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী, বাংড়া, দুর্গাপুর, দশকিয়া, সল্লা, নারান্দিয়া, গোহালিয়াবাড়ী ও পারখী ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ তৌফিক আযমের নামে যেসব ব্যক্তি ও স্থান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় তার একটি দীর্ঘ তালিকা এবং টাকা লেনদেনের বিষয়ে একাধিক অডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি তৌফিক আযমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

ওসি তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের একটি ফিরিস্তি নিম্নরূপ:

১. এলেঙ্গা বাবলাঘাটে বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালেকশন পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়
২. ময়লাঘাট বালুঘাট থেকে মোটা অঙ্কের নজরানা গ্রহণ করা হয়
৩. পুংলি বালুঘাট থেকেও পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়
৪. নাগবাড়ী, বল্লা, পারখী ও পাইকড়া এলাকার জমি থেকে মাটি কাটলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ
৫. থানার রাইটার (মুন্সি)-এর কাছ থেকে মাসে ২ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে
৬. ভুক্তভোগীরা থানায় এসে অভিযোগ, মামলা বা সিআর মামলা করলে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

কালিহাতী থানার ওসির বিরুদ্ধে লাগাতার উৎকোচ গ্রহণ ও পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিস্তর অভিযোগ

প্রকাশিত: ০১:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে ঢালাও উৎকোচ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় এবং ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, কালিহাতী থানায় জিডি বা মামলা করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া এলাকার বালু ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকেও নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে কালিহাতী থানায় কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলেও একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, একটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ মীমাংসা করতে গিয়ে ওসি তৌফিক আযম মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। অপর এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাব খাটিয়ে ওসি তৌফিক আযম স্থানীয় নিরপরাধ ব্যক্তিদের নানাভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায়ে লিপ্ত রয়েছেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আটক না করে তাদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করে নিরাপদে এলাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কালিহাতীর এই অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বল্লা, কোকডহরা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী, বাংড়া, দুর্গাপুর, দশকিয়া, সল্লা, নারান্দিয়া, গোহালিয়াবাড়ী ও পারখী ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ তৌফিক আযমের নামে যেসব ব্যক্তি ও স্থান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় তার একটি দীর্ঘ তালিকা এবং টাকা লেনদেনের বিষয়ে একাধিক অডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি তৌফিক আযমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

ওসি তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের একটি ফিরিস্তি নিম্নরূপ:

১. এলেঙ্গা বাবলাঘাটে বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালেকশন পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়
২. ময়লাঘাট বালুঘাট থেকে মোটা অঙ্কের নজরানা গ্রহণ করা হয়
৩. পুংলি বালুঘাট থেকেও পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়
৪. নাগবাড়ী, বল্লা, পারখী ও পাইকড়া এলাকার জমি থেকে মাটি কাটলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ
৫. থানার রাইটার (মুন্সি)-এর কাছ থেকে মাসে ২ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে
৬. ভুক্তভোগীরা থানায় এসে অভিযোগ, মামলা বা সিআর মামলা করলে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে