বাংলাদেশ ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

শরীরের দুর্গন্ধ যেসব রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে

সংগৃহীত ছবি

গরমে ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাম নিজে কোনো গন্ধ তৈরি করে না। মূলত ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ঘামের মিশ্রণেই তৈরি হয় শরীরের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক গন্ধ। আর এই গন্ধ অনেক সময় শুধু অস্বস্তির কারণই নয়, বরং শরীরের ভেতরের কিছু রোগেরও সংকেত হতে পারে।

শরীরের ঘামগ্রন্থি মূলত দুই ধরনের—একক্রিন ও অ্যাপোক্রিন। একক্রিন গ্রন্থি থেকে নির্গত ঘাম সাধারণত গন্ধহীন এবং এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি, যা বেশি থাকে বগলে, সেখান থেকে ঘাম ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট রোগে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিসে শরীর থেকে ফলের মতো মিষ্টি গন্ধ আসতে পারে, যা কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ হতে পারে। আবার লিভার বা কিডনির সমস্যায় ব্লিচ বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ দেখা দিতে পারে। বিরল কিছু জেনেটিক রোগ যেমন ট্রাইমেথাইলঅ্যামিনিউরিয়া হলে শরীর থেকে মাছের মতো দুর্গন্ধও হতে পারে।

এছাড়া হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিংবা লিভারজনিত জটিলতায়ও শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ বদলে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময়ও হরমোনের ওঠানামার কারণে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

খাবারের সঙ্গেও শরীরের গন্ধের সম্পর্ক রয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ব্রকলি ও লাল মাংসের মতো সালফারসমৃদ্ধ খাবার শরীরের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ঝাল খাবার, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলও ঘাম বাড়িয়ে গন্ধ তীব্র করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ শরীরের গন্ধে পরিবর্তন হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ফলের মতো মিষ্টি গন্ধ, ব্লিচের মতো গন্ধ বা মাছের মতো দুর্গন্ধ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার, সঠিক পোশাক পরা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনে চিকিৎসক অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও সুপারিশ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গন্ধ শুধু ঢেকে রাখা নয়, বরং এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

শরীরের দুর্গন্ধ যেসব রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে

প্রকাশিত: ০৬:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

গরমে ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাম নিজে কোনো গন্ধ তৈরি করে না। মূলত ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ঘামের মিশ্রণেই তৈরি হয় শরীরের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক গন্ধ। আর এই গন্ধ অনেক সময় শুধু অস্বস্তির কারণই নয়, বরং শরীরের ভেতরের কিছু রোগেরও সংকেত হতে পারে।

শরীরের ঘামগ্রন্থি মূলত দুই ধরনের—একক্রিন ও অ্যাপোক্রিন। একক্রিন গ্রন্থি থেকে নির্গত ঘাম সাধারণত গন্ধহীন এবং এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি, যা বেশি থাকে বগলে, সেখান থেকে ঘাম ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট রোগে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিসে শরীর থেকে ফলের মতো মিষ্টি গন্ধ আসতে পারে, যা কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ হতে পারে। আবার লিভার বা কিডনির সমস্যায় ব্লিচ বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ দেখা দিতে পারে। বিরল কিছু জেনেটিক রোগ যেমন ট্রাইমেথাইলঅ্যামিনিউরিয়া হলে শরীর থেকে মাছের মতো দুর্গন্ধও হতে পারে।

এছাড়া হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিংবা লিভারজনিত জটিলতায়ও শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ বদলে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময়ও হরমোনের ওঠানামার কারণে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

খাবারের সঙ্গেও শরীরের গন্ধের সম্পর্ক রয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ব্রকলি ও লাল মাংসের মতো সালফারসমৃদ্ধ খাবার শরীরের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ঝাল খাবার, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলও ঘাম বাড়িয়ে গন্ধ তীব্র করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ শরীরের গন্ধে পরিবর্তন হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ফলের মতো মিষ্টি গন্ধ, ব্লিচের মতো গন্ধ বা মাছের মতো দুর্গন্ধ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার, সঠিক পোশাক পরা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনে চিকিৎসক অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও সুপারিশ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গন্ধ শুধু ঢেকে রাখা নয়, বরং এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

kalprakash.com/SS