রান্নাঘরের পরিচিত একটি উপাদান রসুন শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও অনেক উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তরকারি, ভর্তা, আচার কিংবা মুড়ি মাখানোসহ নানা খাবারে রসুন নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, রসুনে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, ফোলেট, সেলেনিয়াম এবং সালফারজাত উপাদান। এসব কারণে এটি অনেক সময় “সুপারফুড” হিসেবেও পরিচিত।
রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে।
রসুনের উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। হজমশক্তি বাড়ানো, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানো এবং শরীরের কোষ সুরক্ষায়ও রসুন কার্যকর হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরিন ইনফেকশন কমাতেও রসুন কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীদের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মেনোপজ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা কমাতে রসুন উপকারী হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও এটি প্রজননস্বাস্থ্যে সহায়তা করতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।
কীভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন। কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে এর উপকারী উপাদান অ্যালিসিন বেশি কার্যকর হয়।
যারা কাঁচা রসুন খেতে অসুবিধা বোধ করেন, তারা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া ভর্তা, শাকসবজি বা মুড়ির সঙ্গে কাঁচা রসুন খাওয়াও যেতে পারে।
রসুন রান্না বা বেশি ভাজা হলে এর কিছু উপকারী উপাদান নষ্ট হতে পারে। তাই কাঁচা অবস্থায় খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায় বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রসুন খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। এছাড়া যাদের ডায়রিয়া, বমি বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকা উচিত।
কারো রসুনে অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি না খাওয়াই ভালো।
অনলাইন ডেস্ক 

























