রাজধানীর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেজগাঁও কলেজ-এর প্রধান ফটক এখন যেন অঘোষিত শপিংমলে পরিণত হয়েছে। যেখানে থাকার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল ও নিরাপদ পরিবেশ, সেখানে গড়ে উঠেছে সারি সারি অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা ও ফুটপাত দখলের চিত্র। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ গেটের দুই পাশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসানো হয়েছে। কাপড়, খাবার, মোবাইল এক্সেসরিজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। এমনকি কিছু দোকান কলেজ গেটের অংশ দখল করেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতেই এসব কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে প্রবেশ করতে গিয়ে মনে হয় যেন কোনো বাজারে ঢুকছি। পড়াশোনার পরিবেশ তো নেইই, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করা যায় না।
নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগে চুরি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ গেট দখল করে এসব অবৈধ দোকান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে সবকিছু।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার পরিবেশ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ গেট থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তেজগাঁও কলেজ প্রতিনিধি 























