দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদলের পৃথক দুটি ব্যানারে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে উপাচার্য জানিয়েছেন, সরকার পদক্ষেপ নিলে তিনি দায়িত্ব ছাড়তে প্রস্তুত।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য হায়দার আলী জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপাচার্য হিসেবে থাকার জন্য তিনি কোনো মন্ত্রী, এমপি, সচিব বা শিক্ষক নেতাদের কাছে চেষ্টা-তদবির করেননি। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে যাবেন তিনি।
উপাচার্য আরও জানান, উপাচার্য পদ আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে বহুদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেছে, সেশনজট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেনি। আমি এখনো চাই, এই পদত্যাগ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন না ঘটুক। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে যত উপাচার্য এসেছেন, কমবেশি সবার সময়েই ক্যাম্পাস অশান্ত রাখার প্রচেষ্টার ইতিহাস শুনেছি। কুমিল্লাবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচান। দলমত নির্বিশেষে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, যাতে এটি দেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।”
এর আগে গত বুধবার (৬ মে) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে ‘সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে মানববন্ধন এবং দুপুর ২টার দিকে শাখা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় নিয়োগ-পরবর্তী সময় থেকে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, গোপনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে।
বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি 























