নাটোরের নলডাঙ্গায় আবারও বেড়েছে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের উপদ্রব। এক রাতে চুরি হয়েছে সেচ কাজে ব্যবহৃত ছয়টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার।
শনিবার (২ মে) রাতে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বিভিন্ন মাঠ থেকে এসব ট্রান্সফরমার চুরি হয়। সকালে মাঠে গিয়ে ট্রান্সফরমার না পেয়ে কৃষকরা বিষয়টি টের পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্লভপুর গ্রামের মাঠে স্থাপিত গভীর ও অগভীর নলকূপের সংযোগ থেকে সংঘবদ্ধ চোরেরা একে একে ৬টি ট্রান্সফরমার নামিয়ে নিয়ে যায়। ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ নিয়ে শুধু খোলসগুলো খুঁটির নিচে ফেলে রেখে গেছে চোরচক্র। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গ্রামের কৃষক ইয়াদ আলী মন্ডল, সুলতান আলী সরদার, হাফেজ জরুল ইসলাম সুরুজ এবং মিলন প্রামাণিক। এছাড়া এর আগে একই গ্রামের কৃষক আফসার আলী খানের দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিলন প্রামাণিক ও জরুল ইসলাম সুরুজ বলেন, সকালে মাঠে এসে দেখি খুঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই, শুধু খোলস পড়ে আছে। এমনিতেই ধানের দাম আর আবাদের খরচ নিয়ে আমরা চাপে আছি, তার ওপর এই বিপদে আমাদের পথে বসার দশা। আগামী সেচ মৌসুমের আগে আবার টাকা দিয়েই নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে হবে।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর নলডাঙ্গা জোনাল অফিসের এজিএম আবু তাহের জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ কর্মীদের পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের থানায় জিডি করে আবেদন করতে হবে। এরপর সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুসারে আগামী মৌসুমে কৃষকদের টাকা জমা দিয়েই নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হবে। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত নলডাঙ্গায় প্রায় ২০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরে আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের চোরচক্রকে ধরতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি 























